কলকাতাজাতীয়জেলারাজ্যলাইফস্টাইলসাহিত্য সংস্কৃতিহাওড়া

দুর্গাপূজায় কল্পতরু মমতা

এই বাংলা 24:- হাতে মাত্র ৭৬ দিন বাকি,এখন থেকেই সাজো সাজো রব।কারণ বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা।এই উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবছরেও এক সমন্বয় বৈঠক আয়োজন করেন রাজ্য সরকার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে।এবছর ফায়ার লাইসেন্স সহ সমস্ত কর মুকুব করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া বিদ্যুতের ছাড় গতবারে ৬৬শতাংশ ছিল এবার তা বাড়িয়ে ৭৫শতাংশ করেন তিনি। শুধু তাই নয় অনুদান বাড়িয়ে ৭০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার করলেন তিনি।এও আশ্বাস দেন পরের বছর এক লক্ষ করবেন। মুখ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে কি বলেছেন তার এক ঝলক:-

জানেন তো আজও বাজেট হয়েছে আমরা কিচ্ছু পাইনি। বাংলার ভাগ্যে শূন্য জুটেছে। বিদ্যুতের ছাড় আগের বার ছিল ৬৬ শতাংশ। এবার ৭৫ শতাংশ ছাড়। গতবার অনুদান কত পেয়েছিলেন? এবার ৫০ করে দিই? পুজো কমিটিগুলো কী বলছে? প্রথম শুরু করেছিলাম ২৫ হাজার দিয়ে। তারপর আস্তে-আস্তে ৭০-এ এসেছে। এবারে যদি সব করে দিই আগামী বছর কী হবে? আসছে বছরের জন্য কিছু তো রাখতে হবে? এবার ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৮৫ হাজার করলাম। এই গরিব সরকার আর কী করতে পারে বলুন? বাদ বাকি ম্যানেজ করে নেবেন। আগামী বছর ১ লক্ষ করে দেব। দু’বছরেরটা ঘোষণা করে দিলাম।ভিড় এড়াতে অনেকগুলো এন্ট্রি-এক্সিট করুন পুজো কমিটিগুলি। একটা এন্ট্রি-এক্সিট পয়েন্ট রাখলে অসুবিধা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে বিদ্যুতের কানেকশন, আগুন নেভানোর ব্যবস্থা নিয়ম মেনে করতে হবে। টিভিতে আমায় দেখাবে, প্রথম হব বলে এমন কিছু বানালাম তাতে সারা কলকাতা স্তব্ধ হল একটা পুজোতে এটা যাতে না হয় দেখতে হবে। সুজিত বসু আছেন, শ্রীভূমির পুজোর জন্য এয়ারপোর্ট বন্ধ হয়ে গেল, সেটা যেন না হয়।বাসস্ট্যান্ড, ফেরীঘাট, রেলস্টেশন কভার করতে হবে যাতে মানুষের অসুবিধা না হয়। ড্রোন, কুইক রেসপন্স টিম, সিসিটিভি সব ব্যবস্থা রাখতে হবে। মেয়েদের নিরাপত্তা, বয়স্ক মানুষদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।ক্লাবগুলিকে বলব কোন পুজোর কী থিম পুলিশকে শেয়ার করুন। আমি এক সংবাদপত্রে দেখেছি কেউ নাকি ১১২ ফুটের দুর্গাপুজো করছে। ভাবতে পারেন? এতে পদপিষ্ট হয়ে যাবে। আমি লাইটিং, লেজারের খেলা করলাম। আরে প্লেনের দুর্ঘটনা হতে পারে। অন্য মানুষের ক্ষতি হতে পারে। তবে পদপিষ্টের ঘটনা যাতে না ঘটে।ক্লাবগুলো বলব মহিলাদের ভলেন্টিয়ার্স করুন। ভাল কাজ করে। ছোট ছোট পড়ুয়াদের কাজে লাগান। ওরা চেষ্টা করেন অতিথিদের নিয়ে যাওয়ার। তবে অতিথিদের জন্য বিশেষ আয়োজন করা মানে সাধারণকে আটকে দেওয়া নয়। আমি ভিআইপি কার্ডের বিরুদ্ধে। যাঁরা ভিআইপি তাঁরা গাড়ি হাকিয়ে চলে যাবেন। আর সাধারণ মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াবেন আমি পক্ষে নই। ভিআইপিরা চেষ্টা করব পিছনে থেকে সহায়তা করার। এত ভিড়ে ভিআইপি যাতায়াত করলে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে অসুবিধা হয়। লক্ষ রাখতে হবে কোনও রকম পদপিষ্টের ঘটনা যাতে না ঘটে।বড় বড় ক্লাবের পুজোয় পুলিশকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি ক্লাবের ভলান্টিয়রর্সদের নজর রাখতে হবে। এখন তো মহালয়া থেকেই পুজোর উদ্বোধন শুরু হয়। এর জন্য আমিই দায়ী। আমারই দোষ। মহালয়ার আগের দিন থেকেই উদ্বোধন শুরু করে দিই। তাই মানুষজনও ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন। পুজো সবাই ভালবাসে।কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সম্বন্বয় রক্ষা করতে হবে। কোনও রকম ট্রাফিক মুভমেন্টে অসুবিধা না হয়। এখন জেলাগুলোও টক্কর দিচ্ছে। জেলার পুজো দেখতে গেলে ভাবতে হবে ওরা এত সুন্দর পুজো করছে। আমি ওই সময় কলকাতা পুজোর পাশাপাশি জেলার পুজোগুলি লক্ষ রাখি। এতে আমারও জ্ঞান বাড়ে।প্রচুর পুজো হয়। দুর্গাপুজোর সংখ্যা বেড়েছে অনেক। বাংলায় প্রায় ৪৩ হাজারের বেশি দুর্গাপুজো ক্লাবগুলি করে। পুজো এবার আগে এসেছে। আগাম সিদ্ধান্ত নিলে অঘটন ঘটবে না। প্রশাসন সহায়তা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *