জেলালাইফস্টাইলসাহিত্য সংস্কৃতি

দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায় ব্রতী হয়েছেন রায়গঞ্জবাসী

এই বাংলা 24:-দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনায় ব্রতী হয়েছেন রায়গঞ্জবাসী।জ্যোতিষমতে শ্রাবণ মাস খুবই শুভ। এই মাসে শিবের আরাধনা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। অনেকেই এই মাসে শিব ও মা পার্বতীর আরাধনায় নিজেদের লিপ্ত রাখেন। দেবাদিদেব মহাদেবকে তুষ্ট রাখতে গুড়, ছোলা, বেলপাতা, ধুতরো দিয়ে প্রসন্ন রাখেন। সেই শ্রাবণ মাসে সোমবারগুলিকে খুবই শুভ বলে মনে করা হয়। ২০২৪ সালের শ্রাবণ মাসে সোমবার কয়টি রয়েছে। ২০২৪ সোমবার- শ্রাবণ মাসে মোট ৫ টি সোমবার পড়ছে। শ্রাবণের প্রথম সোমবার ২২ জুলাই, পড়ছে । ২৯ জুলাই দ্বিতীয় সোমবার পড়ছে শ্রাবণ মাসের। তৃতীয় সোমবার পড়ছে, ৫ অগস্ট। শ্রাবণ মাসের চতুর্থ সোমবার ১২ অগস্ট। এরপর শ্রাবণের পঞ্চম ও শেষ সোমবার ১৯ অগস্ট। পঞ্জিকা অনুসারে, শ্রাবণ এই বছর ২৯ দিন থাকবে।   শ্রাবণ ঘিরে পৌরাণিক কাহিনি- সমুদ্র মন্থনে যখন দেবতারা এবং অসুররা অমৃত বা অমরত্বের সন্ধান করতে একত্রিত হয়েছিলেন তখন সমুদ্র মন্থন করার সময় বহু জিনিস উঠে আসে। উঠএ আসে সোনা, উঠে আসে পশুপক্ষী, উঠে আসেন ধনদেবী লক্ষ্মী, উঠে আসেন ধন্বত্বরি। এরপর আসে হালাহাল নামের বিষ। যা পান করে নেন দেবাদিদেব মহাদেব। তিনি নীলকণ্ঠ হয়ে যান।  তার পর থেকেই দেবাদিদেব নীলকন্ঠ নামে পরিচিতি হয়। শ্রাবণ মাসে তাই মহিলারা দেবাদিদেবের আরাধনা করে থাকে।

প্রতিবছরের মতো এ বছরও একই ছবি দেখা যায় রায়গঞ্জের দেবপুরী ধামে। সকাল থেকেই দেবপুরীতে উপচে পড়া মানুষের ভিড়। সকল মা বোনেরা মন্দিরে সকাল থেকেই পুজো দিতে যান। আর আজ সেই প্রথম সোমবার। এর পাশাপাশি করা নজরদারিতে রাখা হয়েছে গোটা মন্দির চত্বরকে। কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য নজর রেখেছে সর্বক্ষণ। দেবপুরীর অন্যতম কর্মকর্তা অসীম অধিকারী জানান, শ্রাবণ মাসে রায়গঞ্জ শুধু নয় উত্তর দিনাজপুর জেলা এমনকি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। শ্রাবণ মাসের দিকে মানুষ তাকিয়ে থাকেন। শিবরাত্রি থেকে শুরু করে প্রতিটি উৎসবের মুহূর্তেই দেবপুরীতে যথেষ্ট ভক্ত সমাগম লক্ষ্য করা যায়। শ্রাবণ মাস বাবার জন্ম মাস। ভক্তরা যাতে মন্দিরে এসে সুন্দর ভাবে জল ঢালতে পারেন তার জন্য সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে মন্দিরের পুরোহিত বিদ্যুৎ চক্রবর্তী জানান, “শিব হচ্ছেন দেবাদিদেব মহাদেব। আমরা সকলেই শিবের আরাধনা করি। এই মুহূর্তে দেব পুরীতে যে দেবাদিদেব মহাদেব আছেন সেখানে বহুদূরান্ত থেকে মানুষ পুজো দিতে আসছেন। এই দেবপুরী এখন রাজ্যের মধ্যে বড়সড়ো প্রতিষ্ঠান। মন্দিরে পুজো দিতে আসছেন ভক্তরা তাদের সকলের মনোবাঞ্ছা পূরণ হচ্ছে। এই মন্দিরে খুব নিষ্ঠা সহকারে পুজো দেওয়া হয়। “

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *