জেলাসাহিত্য সংস্কৃতিহাওড়া

হাওড়া প্রেস ক্লাবের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সৃজন ও সৌহার্দ্যের মিলন

এই বাংলা 24:-প্রতিষ্ঠার ৪৭ বছর অতিক্রম করল হাওড়া প্রেস ক্লাব—এই দীর্ঘ পথচলার গর্ব ও গৌরবকে উদ্‌যাপন করতে, সাহিত্য-সংস্কৃতির এক মনোজ্ঞ আসর বসেছিল হাওড়ার রামগোপাল মঞ্চের নিত্যানন্দ কক্ষে। এই দিনটি যেন হয়ে উঠেছিল সাংবাদিকতা, সাহিত্য এবং সমাজচেতনার এক সম্মিলিত উৎসব।

বিচারকের ভাষণে ন্যায় ও সাংবাদিকতার বন্ধন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, হাওড়া জেলা প্রধান বিচারক শঙ্কর কুমার কোয়ারী, তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন সত্য, সাহস ও নিরপেক্ষতার গুরুত্ব। সাংবাদিক সমাজের প্রতি তাঁর প্রত্যাশা—“তথ্য যেন শুধু বাহক না হয়, হয়ে ওঠে জনচেতনায় আলোর দীপ।”

প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের স্মৃতিচারণ

হাওড়া প্রেস ক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বিশিষ্ট আইনজীবী সুকুমার দত্ত, ক্লাবের শুরুর দিনগুলির কথা স্মরণ করে বলেন, “কয়েকজন নিষ্ঠাবান তরুণের স্বপ্ন আজ বাস্তবের মঞ্চে ৪৭ বছর পূর্ণ করল—এটাই আমাদের সাফল্য।” তাঁর আবেগময় বক্তব্যে স্পষ্ট হয় ক্লাবের অন্তর্লীন আদর্শ।

প্রশাসনের শুভেচ্ছা বার্তা

হাওড়া পৌর নিগমের মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্ত্তী ক্লাবের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, “প্রেস ক্লাব শুধু সাংবাদিকদের মিলনস্থল নয়, হয়ে উঠুক নাগরিক সমাজের বিবেকের প্রতিধ্বনি।”

সাংবাদিকদের কণ্ঠে আত্মসমালোচনার ছায়াবিশিষ্ট সাংবাদিক দেবাশিস চক্রবর্তী-র বক্তব্যে ছিল আত্মসমালোচনার তীক্ষ্ণতা। তিনি বলেন, “আজকের সাংবাদিকতা প্রযুক্তির ঝড়ে ভাসছে—এই সময়ে দরকার মাটির কাছাকাছি থেকে মানুষের কথা বলার সাহস।”

সাহিত্য ও সংস্কৃতির সেতুবন্ধন

হাওড়া সংস্কৃত ও সাহিত্য সমাজের সম্পাদক দেবব্রত মুখোপাধ্যায় তাঁর বক্তৃতায় বলেন, “প্রেস ক্লাব যেন হয়ে ওঠে সাহিত্যের চর্চাক্ষেত্র—যেখানে সাংবাদিকতা আর সৃজনশীলতা একসাথে পথ চলে।”

প্রজ্ঞার আলো শিক্ষাক্ষেত্র থেকেও

মারিয়াস ডে স্কুলের রেক্টর অমিতাভ দত্ত প্রেস ক্লাবকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তথ্যনির্ভরতা ও ন্যায়বোধের পথপ্রদর্শক হিসেবে তুলে ধরার আহ্বান জানান।

সংগঠন ও নেতৃত্ব

হাওড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি শৈলেশ্বর পান্ডা, সহ সভাপতি শৈবাল বসু, বাণীব্রত কাড়ার, স্বপ্না দত্ত, এবং সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার পাল, যুগ্ম সম্পাদক সৌরভ সিংহ ও কৌশিক ঘোষ সহ অন্যান্য দের—সমস্ত অনুষ্ঠানকে সুচারুভাবে পরিচালনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণ করলেন তাঁদের দক্ষ সংগঠকসত্তা। তাঁদের নেতৃত্বে ক্লাবের গতিপথ যেমন ঐতিহ্যনির্ভর, তেমনি সমকালীন।

কবিতা ও সুরে

প্রথম পর্বে ছিল এক অনন্য কবি সম্মেলন, যেখানে ৩০ জন কবির কণ্ঠে প্রতিফলিত হয় সমাজ, স্বপ্ন, প্রেম ও প্রতিবাদের বহুবর্ণা চিত্র। কবি সম্মেলনের সঞ্চালক ছিলেন প্রশান্ত বিশ্বাস, যিনি তাঁর উজ্জ্বল কণ্ঠে আবৃত্তির মধ্য দিয়ে বৈকালিক আবহে সজীবতা এনে দেন।দ্বিতীয় পর্বে সঙ্গীতে পরিবেশনা করেন নবীন চন্দ্র খাঁড়া, পার্থ কাড়ার, দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বপ্না দত্ত এবং তাঁদের সংগীত সম্প্রদায়—তাঁদের কণ্ঠে ছিল মাটির ঘ্রাণ, সময়ের ছন্দ, ও হৃদয়ের সুর।—এই দিনের অনুষ্ঠান ছিল একদিকে অতীতচারণ, আবার অন্যদিকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলার প্রত্যয়।এদিন হাওড়া প্রেস ক্লাবের সদস্যা অঞ্জনা দে কে বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করা হয়। হাওড়া প্রেস ক্লাব শুধু একটি সংগঠন নয়—এ যেন হয়ে উঠেছে এক সমাজসচেতন সৃজনমঞ্চ, যার হাত ধরে শহরের মানচিত্রে যুক্ত হয়েছে নতুন এক সাংস্কৃতিক ঠিকানা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *