চলে গেলেন অভিনেতা উদয় শঙ্কর পাল

চলে গেলেন অভিনেতা উদয় শঙ্কর পাল।বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।ছোট থেকে থিয়েটার দিয়ে জীবন শুরু।থিয়েটারের টানে কোনোদিন কোনো চাকরি করেননি। অকৃতদার এই মানুষটি টিউশন করে জীবন নির্বাহ করতেন।থিয়েটারের টানে থিয়েটার আর মাঝেমধ্যে চলচ্চিত্রে অভিনয় ছোট রোলে।এগারো সহ এরকম বহু চলচ্চিত্রে তাকে দেখা গেছে। কিন্তু ভাগ্য তাকে খ্যাতি দিল ‘ভূতের ভবিষ্যত’ চলচ্চিত্রে রিক্সাওয়ালা আত্মারামের ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য। সেখানে ওনার বলা কিছু সংলাপ আজো মানুষের মুখে মুখে।তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। শতাধিক চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি দেখা গেছে, বিশেষ করে সিরিও কমিক রোলে। সন্দীপ রায় পরিচালিত প্রফেসর শঙ্কু,তারপরে মনোজদের অদ্ভূত বাড়ি,গোলমাল সহ বহু চলচ্চিত্রে নিজের উপস্থিতি দেখিয়েছেন। এমনকি বলিউড চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেছেন।তিনি অনুরাগ বসু পরিচালিত স্টোরি অফ রবীন্দ্রনাথে অভিনয় করেছেন।মাদার তেরেসা কে নিয়ে বিদেশী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।এমনকি কিছু বহুজাতিক পণ্যের বিজ্ঞাপনে দেখা গেছে তাকে। কিন্তু মানুষটার নিজের বলতে কেউ তেমন ছিলনা।এক দিদি আছেন, তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হন,তার সেবা করতে দিনযাপন করেন,তখন চলচ্চিত্রে অভিনয় একটু কমিয়ে দেন।দু তিন বছর দিদির সেবা করতে গিয়ে চলচ্চিত্রে অভিনয় করা এই সব দখলে, ডেঙ্গু র কবলে পড়েন।সেখান থেকে সুস্থ হয়ে কাজে ফিরে এলেও চেহারা ভেঙ্গে যায়।তারওপর অনেক ক্ষেত্রে স্মৃতি সাথ দিতোনা,চেনা জায়গা ভুলে যেতেন।গত মাসেও এক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ফিরতে গিয়ে বাড়ির রাস্তা ভুলে যান।আসলে খুব সাধারণ জীবন যাপন করতেন।অবসর সময়ে পার্কের বেঞ্চে বা রাস্তার কোনো পান্থশালা য় বসে কাগজ পড়তেন ও শব্দছক করতেন।মানসিকতায় বাম মনস্ক হলেও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে শ্রদ্ধা করতেন, এমনকি ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রায় হেঁটেছিলেন।
গত মাসে হঠাৎ বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে গেলে পরবর্তী কালে কবি অভিজিৎ পালের সামাজিক মাধ্যমে জানা যায় যে উদয় শঙ্কর পালের লাঙ্ক ক্যান্সার যা একেবারে শেষ স্টেজ। অভিজিৎ পালের তৎপরতায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। আর্টিস্ট ফোরাম জানে বিষয়টি,তারা সহযোগিতা করেন। এছাড়াও পরিচালক অনীক দত্ত,অভিনেতা সুমিত সমাদ্দার, অভিনেতা দেবদূত ঘোষ,গায়ক শিলাজিৎ সহ বহুজন অভিজিতের ডাকে সাড়া দিয়ে পাশে থেকে সাহায্য করেন।নানা রকমের চেষ্টায় গতকাল বিকালে উদয় শঙ্কর পাল চলে যান পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে।শেষ শয্যায় একমাত্র সন্তানের মতো আগলে ছিলেন হাসপাতালে রোজ যে থাকতো সেই অভিজিৎ পাল।
