জেলাহাওড়া

উত্তর হাওড়ায় কঠিন পিচে, অটুট মমতা-গৌতম ম্যাজিক

‌এই বাংলা 24:-হাওড়া সদর লোকসভা কেন্দ্রের অন্যতম বিধানসভা হচ্ছে উত্তর হাওড়া।এখানে নানা ভাষার লোকের বসবাস। কিন্তু এই উত্তর হাওড়া নিয়ে বহু মানুষের ভোটের পাটিগণিতের সংশয় সৃষ্টি হয়।কারণ এখানে হিসাব করলে অবাঙালির সংখ্যা বাঙালির থেকে একটু বেশি।২০১১ থেকে এই বিধানসভা খুব কম মার্জিনে জিতে এলেও,লোকসভায় এই বিধানসভা খুব একটা ভালো ফল করেনি। কিন্তু ২০২১ সালে বিধায়ক হন গৌতম চৌধুরী।যিনি বরাবরই লড়াকু,১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হ‌ওয়ার পর থেকে তার লড়াই অব্যাহত। তিনি কখনো কারোর কাছে মাথা ঝোঁকাননি। কর্মীদের আপদে বিপদে যখন প্রয়োজন পড়েছে,সে যত রাত্রি হোক গৌতম চৌধুরী হাজির।আজো বিধায়ক হয়েও অন্যথা হয়নি।

উত্তর হাওড়ার সালকিয়ায় ১৮ মার্চ বসন্ত উৎসবে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অশোক ঘোষের মেয়ে সুজাতা দত্তকে দেখিয়ে বলেন, ‘ও ভালো করে কাজ করছে। ও কাউন্সিলার দিয়ে শুরু করবে তারপর এমএলএ হবে। ভগবান আছে।’ প্রসূনের এই বক্তব্য ভাইরাল হতেই পরেরদিন সোমবার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী ও তাঁর অনুগামীরা নিজেদের ক্ষোভ গোপন করেননি।গৌতম অভিযোগ করেন, ‘যে ভাবে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে একজনকে কাউন্সিলার কিংবা বিধায়ক হওয়ার রাজনৈতিক টোপ দিচ্ছেন, তা ঠিক নয়। প্রয়োজনে ভোটের পর দলের মধ্যে সুজাতা দত্তের নাম কাউন্সিলারের টিকিটের জন্য প্রস্তাব দিতে পারতেন। তা না করে প্রকাশ্যে এ ভাবে বলায় দলের কর্মীরা মানসিক ভাবে আহত হয়েছেন। তিনি ১০ শতাংশ কর্মীকে খুশি করতে গিয়ে ৯০ শতাংশ কর্মীকে অবহেলা করছেন।’ এখন যদি ভোটের মুখে তৃণমূল কর্মীরা বসে যান তা হলে প্রসূন ভোট সামলাবেন কী করে, সেই প্রশ্নও তুলছিল বিক্ষুব্ধ শিবির। তিনি আরো বলেছিলেন,‘কে অর্জুন কে কৃষ্ণ পুরস্কার পেল সেটা ফ্যাক্টর নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ব্রিগেড সমাবেশে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করতেই আমরা তার জন্য প্রচার শুরু করেছি। তাঁকে জেতানোর চেষ্টা করবো।’ তারপর অবশ্য প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চান।

তিনি যদি ক্ষমা না চাইতেন,তাহলে হয়তো দলের একনিষ্ঠ সৈনিক হিসেবে মাঠে নামতেন কি গৌতম চৌধুরী, কিন্তু খেলা কি ঘুরতো?

পরবর্তী কালে অবশ্য গৌতম চৌধুরী মাঠে নামেন। নিজের ক্ষোভ কে চাপা দিয়ে কর্মী বৈঠক করেন।তারপরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদযাত্রা।সেই পদযাত্রা ছিল ইছাপুর জল ট্যাঙ্ক থেকে উত্তর হাওড়ার একাংশ পিলখানার মোড়।সেইমত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাঁটলেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে দেখে আবেগতাড়িত গৌতম চৌধুরী অনুরোধ করলেন,আরেকটু যেতে।নেত্রী কথা রাখলেন,তিনি চৌরাস্তা অবধি এলেন। তারপরে জটাধারী পার্ক নিয়ে স্মৃতিমন্থন করলেন। উঠলেন টোটোয়,এলাকা ঘুরলেন। গৌতম চৌধুরীর সব অনুরোধ মোটামুটি রাখলেন।তারপরে তিনি বেরিয়ে যান,অবনী মলের কাছে আসতেই তার ফোন বেজে ওঠে,ফের অনুরোধ,চলে আসেন নেত্রী।ফের পদযাত্রা শুরু করেন বাঙ্গাল বাবুর ব্রিজ থেকে পিলখানা। অর্থাৎ যে জায়গা উনি কভার করেননি। গৌতম চৌধুরী মনে বল পেলেন।কারণ তার ধ্যান জ্ঞান একমাত্র নেত্রী। তিনি নেত্রী ছাড়া কাউকে চেনেননা। ফলস্বরূপ গৌতম চৌধুরী ২০২১ সালে নিজের ছয় হাজারের সামান্য ভোটে জেতা আসনে,নিজেই বাড়িয়ে দিলেন নিজের বিধানসভার ব্যবধান,এক লাফে বারো হাজারের কাছে। অবশেষে কাজ করলো মমতা গৌতম ম্যাজিক।কারণ একাধারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী মানসিকতা আর গৌতম চৌধুরীর জনসংযোগ,যা মার্জিন বাড়াতে সচেষ্ট হয়।কারণ এলাকাবাসী প্রথম একজন বিধায়ক পেয়েছেন যিনি সাধারণ মানুষের মতো ঘুরে বেড়ান,লোকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যান দলগত নির্বিশেষে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *