সম্পর্ক (পিয়ালী মুখোপাধ্যায়)

(পিয়ালী মুখোপাধ্যায়)
এই শহরে আগে আসেনি সুনীল রত্নম। বরাবর কোচিতেই থাকে। আজন্ম। কিন্তু এই কলকাতা শহরের সঙ্গে ওর একটা গভীর যোগ আছে। ওর বাবা একবার এখানে আত্মগোপন করে ছিলেন। পুরানো দিনের বিপ্লবের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল। তখন নকশাল পিরিয়ড।১৯৬৭ সাল। মিস্টার কেশবনের বাড়ি, ভবানীপুরের রূপচাঁদ মিত্র লেন।
এইটুকু সম্বল করে সুনীল যখন নেতাজী সুভাষ এয়ারপোর্টে নামল তখনো ভালো করে বিকেল হয়নি। সকাল ১০.৪৫- এ কোচি থেকে ছেড়ে মোটের ওপর ঠিকঠাক এসেছে বলা যায়। লাগেজ-টাগেজ কালেক্ট করে জয়লক্ষ্মী-কে একটা ফোন করল সুনীল। ফোনটা বেজে গেল। হয়তো মিটিং -এ আছে। সে একটা এস. এম. এস. করে দিল ‘রিচড কলকাতা সেফলি’। বেশিরভাগ সময় জয়লক্ষ্মী মোবাইল ডেটা অফ করে রাখে, তাই হোয়াটসঅ্যাপ করলে নাও দেখতে পারে। মেসেজটা পাঠানোর পর একটা কফি নিয়ে ধীরেসুস্থে চুমুক দিল । চারটে এখনও বাজেনি। ওর হাতে অনেক সময়। শুভা অন্ততঃ ছয়টার আগে আসবে না। ওর স্কুল ছুটি হয় সোয়া পাঁচটা, সেখান থেকে একটা অটোতে ও চলে আসবে অ্যাক্রোপলিস মলে, সেখান থেকে সুনীলকে নিয়ে যাবে একটা গেস্ট হাউসে।
সুনীল জিগ্যেস করেছিল, ‘সোজাই তো গেস্ট হাউস চলে যেতে পারি আমরা। আবার মল কেন?’ আসলে এসব মল-টল তার একটুও ভালো লাগে না। তার ভালো লাগে ছোট ছোট দোকান, জীবন্ত মুখ-চোখের দোকানী, যারা রাতের দিকে দোকান ফাঁকা থাকলে জীবনের সব কাহিনি উজাড় করে দেয়। ছাপাখানার মালিক কেশবনেরও কি এরকম কাহিনি ছিল? কে জানে?!!
তবে শুভা উত্তরে বলেছিল, ‘একবার বসেই দেখো। এই সব মলে খুব নিজের মতো স্পেস পাওয়া যায়। তোমার ভালো লাগবে। আর গেস্ট হাউসটা এমনি ভালো, তুমি যে জায়গাটায় যেতে চাইছ, তার খুব কাছে, কিন্তু ঘর তো একটাই, বসে কথা বলার…’ বলতে বলতে থমকে গেছিল শুভা। সুনীল বুঝে নিয়েছিল যা বোঝার। গেস্ট হাউসের বন্ধ ঘরে সুনীলের সঙ্গে বসতে ভয় পাচ্ছে শুভা।
ওর প্রথমে খুব অপমানিত লেগেছিল। ভেবেছিল বলে, “মলেও আসার দরকার নেই,ও একটা ক্যাব ধরে সোজা গেস্ট হাউস চলে যেতে পারবে।” কিন্তু সেটা খুব অভদ্রতা হত। শুভাই সব ঠিক করেছে। ওর স্কুল, সংসার, তিন বছরের ছোট মেয়ে, ক্যান্সার পেশেন্ট বাবা –সমস্ত সামলে। এর পরে কি বলা যায়- “এসো না তুমি, আমি একাই ঠিক আছি।” আর ঘটনা হচ্ছে, গেস্টহাউস বা মল দুটোই ওর সমান অচেনা, তবু যদি খানিকটা রাস্তা শুভা সঙ্গে থাকে। সুনীল ভাবল ওকে একটা ফোন করে নেয়। তার আগেই ফোন বাজল। শুভা করছে নাকি? না, জয়লক্ষ্মী ?
— পৌঁছে গেছ?
— হ্যাঁ এবার গেস্ট হাউসে যাব।
— আচ্ছা শোনো, তোমার মা দুপুরে ফোন করে জানতে চাইছিলেন , তুমি কোথায় গেছ? তোমাকে জিগ্যেস করেছিলেন কিন্তু তুমি নাকি কিছু উত্তর দাওনি !
—বলে দিও ব্যাঙ্গালোর গেছি। এটা নিয়ে এত মাতামাতির কি আছে?
–ব্যাঙ্গালোর তো টু উইকস আগেই গেলে। আবার বললেই সন্দেহ করবেন।
— তাহলে পুণে বল, কিংবা উটি কিংবা কাশ্মীর। দোহাই কলকাতা বোলো না।
— মা জানেন তুমি কলকাতা গেছ। কেটে কেটে কথা- গুলো বলে জয়লক্ষ্মী।
ধাঁ করে মাথা গরম হয়ে যায় সুনীলের, ‘ মা কী করে জানল? নিশ্চয় তুমি বলেছ?’
ওপারে জয়া চিৎকার করে ওঠে , “আমি বলব কেন ? তুমি ঐ মেয়েটার সঙ্গে, দ্যাট হোর, এই কদিন জোরে জোরে কথা বলেছ, মা কি কালা? “
বলেই খট করে ফোন কেটে দিল জয়া ওরফে জয়লক্ষ্মী। সুনীলের কান ঝাঁঝাঁ করছিল। কী বলল জয়া? শুভা হোর !
কীসের ভিত্তিতে এতবড় অপবাদ দিতে পারল জয়া ! সেটা ভেবে পেল না সুনীল। শুভাকে ও কতটুকু জানে? মাস কয়েক কোচিতে গিয়েছিল শুভা। কোনো একটা প্রজেক্টের কাজে। তখনো স্কুলটায় জয়েন করেনি। একটা রিসার্চ গ্রুপে ছিল। তখনই সুনীলের সঙ্গে আলাপ। জয়া অবশ্য তখন থেকেই ওর ওপর খাপ্পা। কারণ ছ- -মাসের মেয়েকে মায়ের কাছে ফেলে ও কোচিতে এসে ছিল। এ ব্যাপারটা একদম মেনে নিতে পারেনি জয়া। অনেকবারই বলেছে সে কথা ‘ কীরকম মা রে বাবা? দুধের শিশু ফেলে কাজ করতে এসেছে! তাও চাকরি নয়, প্রোজেক্ট!’ জয়ার চোখে তাই শুভা যে একটু কম মা, সেটা জানত সুনীল।
কিন্তু তাই বলে হোর?! এটা কি মেয়েলি জেলাসি?! অথচ জয়া খুব ভালভাবেই জানে শুভার সঙ্গে সুনীলের কিছু নেই। ও কলকাতায় চলে এসেছে বছর দুয়েকের বেশি। এর মধ্যে মাঝে মাঝে হোয়াটস্অ্যাপ ছাড়া আর কোনরকম যোগাযোগই ছিল না। হঠাৎ বসির্ আঙ্কলের ফোনটাই সব এলোমেলো করে দিল। কলকাতা আসা জরুরি হয়ে পড়ল তার। আর কলকাতা বলতে একমাত্র শুভাকেই-তো চেনে। আর শুভা একবার বলেছিল না ওরা ছোটবেলায় ভবানীপুরে থাকত? সেটা মনে পড়তেই ফোন করেছিল ওকে। শুভাই সব ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আপাতত দিন তিনেক থাকার কথা। দরকার হলে সেটা আরও বাড়বে। তবে সাতদিনের বেশি সম্ভব নয়। হয়তো আবার আসতে হবে, হয়তো বারবার আসতে হবে, যতদিন না…
সুনীলের ক্যাব এসে গেছিল।
সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল শুভা। ও আরও সুন্দরী হয়েছে। সুনীল ভেবে পেল না কী করে এত সুন্দরী হল ও ? তিন বছরের মেয়ের ঝক্কি তো কম না। তার ওপর বাবার ক্যানসার, তাঁকে নিয়ে ছোটাছুটি, এত কিছু করে ওকে তো ম্লান নিষ্প্রভ দেখানোর কথা। কিন্তু তার বদলে সুনীল দেখল ঝলমলে অনেক কমবয়সী একটি মেয়েকে। এ যেন সেই শুভা নয়, অন্য কেউ।
ডিভোর্স পেয়ে যাওয়ার কথা হোয়াটসঅ্যাপেই জানিয়েছিল। বিয়েটা একদম ভাল হয়নি ওর। চার বছরের দাম্পত্যের প্রতিটা দিনই ছিল কণ্টকিত। সেই অসুখী সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেই কি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে ও? নাকি অন্য কারো প্রেমে পড়েছে? ভাবতেই কি অদ্ভুত ভাবে হঠাৎই মন খারাপ হয়ে গেল সুনীলের। ও বুঝতেই পারল না যে শুভা কারো প্রেমে পড়লে ওর মন খারাপের কী আছে? কে হয় শুভা তার?
বেশ কয়েক বছর আগে গোয়াতে আলাপ তাদের। সুনীল তখন একটা লিডিং ডেইলির ফিল্ম ক্রিটিক। ফেস্টিভাল কভার করতে গিয়েছিল গোয়ায়, আর শুভা ওর বানানো একটা শর্ট ফিল্ম নিয়ে। শিশুদের কল্পনার জগত নিয়ে চমৎকার বানিয়েছিল ছবিটা। শেষ দৃশ্যটা এখনও মনে আছে । বাচ্চাটা উপুড় হয়ে ছবি আঁকছে। মা বলেছে একটা সার্কল আঁকতে।
কিন্তু আঁকতে গিয়ে পেন্সিল ভেঙ্গে গেল, বৃত্ত আঁকা আর হল না, অসমাপ্ত কার্ভেচার আস্তে আস্তে ব্যপ্ত আকাশ হয়ে গেল, সেখানে একটা ঘুড়ি আপন মনে উড়ছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা গান বাজছিল, টেগোর সং। কী যেন… ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’… সাবটাইটেল ছিল, তাও পরে ডিরেক্টরের কাছ থেকে মানেটা জেনে নিয়েছিল সুনীল। বলেছিল, ছোটবেলায় টেগোর সং শুনেছে সে অনেক। শুভা রোদ চশমাটা মাথার ওপর তুলে অবাক চোখে তাকিয়ে বলেছিল ‘কীভাবে?’
‘বাবা কয়েকমাস কলকাতায় ছিলেন, আসার সময় কয়েকটা ক্যাসেট এনেছিলেন।’ জানালো সুনীল।
গোয়ার সৈকত, নবীন পরিচালক, নবীন সমালোচক, প্রেম হওয়াই তো স্বাভাবিক ছিল। হয়নি। ওদের দুজনেরই স্টেডি রিলেশন ছিল। শেষ পর্যন্ত রোহনের সঙ্গেই বিয়ে হয় ওর। কিন্তু বিয়েটা টিঁকলো না।
তা আর কী করা যাবে? আর বিয়ে টিঁকে থাকলেই কি ধরে নিতে হবে সব ঠিকঠাক আছে? এই যে জয়া আর ও… আসলে বিয়ে টেকাতে ভালবাসা নয়, অন্য কিছু মেকানিজম লাগে, তা হয়তো শুভার বেলায় কাজ করেনি। শুভা এগিয়ে এসে ওর বাহু আলতো করে ছুঁয়ে বলল, “কী এত ভাবছ? দুদিনও বউকে ছেড়ে থাকতে পারছ না?!” সুনীল শব্দ করে হেসে ওঠে আর সেই হাসিতে ওদের মাঝখানের আড়াই বছর উড়ে যায়।
কিছুক্ষণ পরে কফির কাপে চিনি নাড়তে নাড়তে শুভা জিজ্ঞেস করল, “তুমি ঠিক কী জন্যে এসেছ সুনীল কলকাতায়?”
সুনীল একটু চমকাল। শুভার সঙ্গে তো এ নিয়ে বিশদেই কথা হয়েছে। তবু…… ….
একটু রাগ হয় সুনীলের, যদিও বুঝতে দিলো না।
সুনীল কেটে কেটে বলে, ‘ আমার বাবা অরবিন্দ রত্নম খুব একটা রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে কেরল ছাড়েন। তখনো মার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়নি। তিনি চলে আসেন সোজা কলকাতায়। এখানে মিস্টার কেশবন বলে একজনের বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকতেন। কেশবনের ছিল একটা প্রেস। সেই প্রেসে কমার্শিয়াল কাজ হত, পাশাপাশি অনেক পলিটিকাল লিফলেট ছাপা হত, বাবা সেইগুলো দেখাশোনা করতেন। আর সব প্রেসের কাজও অনেকটাই শিখে গিয়েছিলেন। সব থিতিয়ে যেতে বাবা যখন কেরলে ফিরলেন তখন তাঁর সঙ্গে ছিল প্রেস খোলার স্বপ্ন আর একটা মেয়ের ছবি’।
—‘মেয়ের ছবি? কে সে?’ কফিতে চুমুক দিতে গিয়ে থমকে যায় শুভা।
— ‘সেটাই তো প্রশ্ন। বাবা বছর তিনেক কলকাতায় ছিলেন। সেইসময় কোনো বাঙালি মেয়ের প্রেমে পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তার ছবি সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার মধ্যে সেইটাই মনে হয়। আর এখানেই মার সঙ্গে গণ্ডগোলের শুরু। যখনি বাবা টেগোর সং গুলো শুনতেন মা একবারে খেপে যেতেন।‘
—-‘ছবিটা তুমি দেখেছ? ‘
—- ‘সেটাই আশ্চর্য। ছবিটা বাবার ডায়েরির খাপে থাকত, বিশেষ কোথাও লুকিয়ে রাখেননি, যে কেউ দেখতে পারত। তবে গত বছর বাবা মারা যাবার পর ওই ডায়েরি বা ছবিটা আর খুঁজে পাইনি। মনে হয় মা সরিয়ে ফেলেছেন।’
শুভার মুখে স্পষ্ট হতাশা ফুটে উঠল। দেখে অবাক হলো কিঞ্চিৎ সুনীল। শুভা কি ভেবেছিল ছবিটা সুনীল পকেটে করে নিয়ে এসেছে তাকে দেখাবে বলে আর দেখলেই সে বলে উঠবে ‘ওমা ! একে তো আমি চিনি!’বেশ একটা থ্রিলারের গন্ধ তাকে উত্তেজিত করে তুলেছিল। শুভ্রার শুকনো মুখে আশার আলো আনতে সুনীল মোবাইলটা বাড়িয়ে বলল ‘দেখো।’
সুজাতা দেখল সুনীলের মোবাইলের ফোটো গ্যালারিতে একটা সাদা কালো ছবি। ষাটের দশকের ছাপ স্পষ্ট মেয়েটির সাজে। লম্বা বিনুনি, ডুরে তাঁতের শাড়িতে লাবণ্যময়ী বাঙ্গালিনী। অরবিন্দ এঁর প্রেমে পড়েছিলেন? সুনীল আরেকটা ছবি দেখিয়ে বলল ‘এটা ছবির পেছনটা। বাংলাটা পড়ে বলো’।
সুজাতা পড়ল ‘ মনে রবে কিনা রবে আমারে সে আমার মনে নাই নাই’ -বৈশাখী।
সে উচ্চারণ করে পড়ল, তারপর বলল, ‘এটা একটা টেগোর সং। মানেটা বুঝিয়ে বলছি তোমাকে। আচ্ছা, তুমি কি এই বৈশাখীকে খুঁজতে এসেছো?’
সুনীল দুদিকে মাথা নেড়ে বলল, ‘সেরকম এলেও ক্ষতি কী ছিল? তুমি ভাবো , এই মহিলা আমার মায়ের মতই, আমার জন্ম থেকে আমাদের সঙ্গে রয়ে গেলেন, একটা অচেনা লিপির মতই রহস্য । নাহ, শুভা আমি আসলে বসির কাকার মুখে শুনলাম, বাবার মতো কেউ কেউ সেসময় কেশবনের বাড়ি আত্মগোপন করে ছিলেন। তাঁদের স্মৃতি নিয়েই একটা ছবি করার কথা ভাবছিলাম , তখন তো বাবা সবার প্রপার্টি হয়ে যাবেন, তাই ভাবলাম…’
শুভা একটু হতাশ গলায় বলল, “কিন্তু সে কি এখন আর কিছু পাওয়া যাবে? তুমি যার খোঁজে এসেছো ? কেশবনের বাড়ি, সবাই যেটাকে ‘ম্যাড্রাস হাউস’ বলতো , সেটা অনেক টাকায় প্রোমোটারকে বেচে, প্রেসটাও বেচে বাইপাসে ফ্ল্যাট কিনে চলে গেছে ওর ছেলে। প্রেস, কমিউনিজম, সাহিত্য কোনটাই তার ‘কাপ অব কফি’ নয়। সেই ঠিকানা আমি যোগাড় করে দিতে পারি, কিন্তু লাভ নেই।
সুনীলের রাগ হয়ে গেল শুনে। এসব নিশ্চয় শুভা আজ জানেনি, সুনীলকে কলকাতায় টেনে এনে এসব শোনানোর মানে কি? ও বহুকষ্টে নিজেকে সামলে শুকনো গলায় বলল, ” তাহলে সত্যি আমি কেন এলাম কলকাতায় বলোতো ?’ শুভা ওর কথা শুনে বেশ একটা গভীর চোখে তাকালো ।
পরে উত্তর না দিয়ে রহস্যময় হাসি হেসে ওর মুখের দিকে স্থির চোখে তাকালো। সুনীল দেখল, শুভার কালো গভীর চোখের আড়ালে কী যেন একটা আত্মগোপন করে আছে, ও ধরতে পারছে না। আরেকবার শুভা ছবিটি চাইলো। কারণ ছবিটি অস্পষ্ট হলেও মেয়েটি তার চেনা, সত্যিই চেনা। অনেক পুরানো স্মৃতির ভীড়ে হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি মাত্র।
ভাবলো, ‘বলবে নাকি সুনীলকে!’ কিন্তু সুনীলের টার্গেট তো ওই ছবিটা নয়, ওই মহিলাও নয়। ওর চিন্তা, ওর ইচ্ছে এখন বাবার স্মৃতিকে জড়িয়ে, ওইসব বিখ্যাত মানুষদের অতীত নিয়ে একটা ভীষণভাবে বাস্তব ছবি বানানো। তাহলেই ওনারা অমর হয়ে থাকবেন সিনেমার পাতায়। আর এদের সঙ্গে ওনার ইতিহাস খুঁজে ফেললে তার কলকাতা আসাও সহ সার্থক হয়ে উঠবে।
না, বলবে না শুভা সুনীলকে। তার নিজের জীবন যে এই মেয়েটির ছবির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সুতরাং, অতীত থাক অতীতেই । কফি খেয়ে দুজনে গেস্ট হাউসের দিকে রওনা দিল। ক্যাবের খোলা জানালা দিয়ে শুভা বাইরে তাকিয়ে রইলো। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।।
(কলমে -পিয়ালী মুখোপাধ্যায়)
