দশহরার গঙ্গা পুজো ও মনসা পুজো মাধ্যমে রাঢ় বঙ্গের নদীমাতৃক সামাজিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন

এই বাংলা 24:- দশহরার গঙ্গা পুজো ও মনসা পুজো মাধ্যমে রাঢ় বঙ্গের নদীমাতৃক সামাজিক সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন।
দশহরা তিথি পূর্ব দশজন্মের কৃত পাপ এবং এ জন্মের দশটি পাপ হরণ করে। গঙ্গাপুজোর সঙ্গে ঐদিন মনসামঙ্গলের গান করার রীতি। ঐদিন প্রধান ধর্মীয় কর্ম হল গঙ্গাস্নান এবং দশ ফুল, দশ ফল এবং দশ প্রদীপ জ্বালিয়ে গঙ্গার পুজো। দশহরার গঙ্গাস্নানে দশ জন্মের অর্জন করা সব পাপ ক্ষয় হয় আর অযুত অশ্বমেধ যজ্ঞের যে ফল তা লাভ করা যায়। এই যোগ ভগীরথ দশহরা নামে পরিচিত।
জৈষ্ঠ্য মাসে শুক্লা দশমীতে গঙ্গাস্নানে দশবিধ পাপের মুক্তি ঘটে। আর পুরাণ মতে, ওই দিনই ভগীরথ মহাদেবের জটাবন্দী গঙ্গাকে মর্ত্যে আনেন। তাই ওই দিন তিনি আরাধ্যা দেবী। আমাদের কৃষি প্রধান দেশে কৃষি–সহ সভ্যতার নানা প্রয়োজনে মানুষ প্রবহমান জলধারাকে খাল কেটে নিয়ে আসে লোকালয়ে। এই কাহিনীর পৌরাণিক খোলসটি ছাড়ালে বর্ষার প্রাক্কালে দশহরার এই তাৎপর্যই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। প্রমাণ হয়, নদীর সঙ্গে মানুষের এই অচ্ছেদ্য সম্পর্ক আসলে প্রয়োজনের কারণেই। তাই বুঝি দশহরায় গঙ্গা পুজোর চল।
আবার জলজঙ্গল পরিবেষ্টিত রাঢ়বঙ্গের জনপ্রিয় লৌকিক দেবী মনসা একাধারে সর্পদেবী অন্যদিকে সন্তানসন্ততিরও বা সৌভাগ্যকামনারও। মনসামঙ্গল অনুযায়ী তিনি শিবের মানসকন্যা আর নাগরাজ বাসুকীর ভগিনী। বছরের নানা সময়ে বিভিন্ন স্থানে মনসাপুজোর চল হলেও জৈষ্ঠ্যমাসের শুক্লা দশমীতে দশহরার দিন বছরের প্রথম স্নানযাত্রা শুরু হয় মা মনসার ।
বর্ষার আগেই সর্পকুলের বাড়বাড়ন্ত হয় সেদিন থেকেই। তাই দশহরার দিনে মা মনসার পুজো করে তাঁকে তুষ্ট রাখা হয়।

হাওড়া সালকিয়ার সীতানাথ বসু লেনস্থ ৪০০ বছরের প্রাচীন মনসা মন্দিরে মহাসমারোহে আজ সারাদিন ব্যাপী পুজো অনুষ্ঠিত হলো।দূর দূরান্ত থেকে ভক্তদের ঢল সকাল থেকে চোখে পড়ার মতো ছিল।
চিত্র:-তাপস কুমার ব্যানার্জি
