নবান্নে মমতা-চিদাম্বরম বৈঠক,২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতে ইস্তফা অধীরের

এই বাংলা 24:- কেন্দ্রে কংগ্রেস রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপক্ষে থাকলেও,অধীর রঞ্জন চৌধুরী বরাবরই মমতা বিরোধী। এমনকি এ নিয়ে বহুবার তাকে ধমকানি খেতে হয়েছে, তবুও তাকে টলানো যায়নি। কিন্তু এবারে লোকসভা নির্বাচনে তার নিজের কেন্দ্রে হার তাকে অনেকটা বিমর্ষ করেছে,যতই হোক দীর্ঘ ২৫ বছরের সাংসদ ছিলেন। এদিকে সমগ্র ভারতে কংগ্রেস ভালো ফল করলেও এই রাজ্যে খুব খারাপ ফল করেছে, সবকিছু দায় নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সাল থেকে অধীরঞ্জন চৌধুরী প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে ছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতির পদ সামলেছেন। লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতাও ছিলেন তিনি।এর আগে মুর্শিদাবাদের জেলা সভাপতি পদে ছিলেন ৷২৫ বছর বহরমপুরের সাংসদ ছিলেন।ওই কেন্দ্রে রীতিমতো অপরাজেয় হয়ে উঠে ছিলেন অধীর।লোকসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে যান তিনি।এরপরই অধীরকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয় ।যেভাবে ভোটে বামেদের সঙ্গে জোট করে মমতা বিরোধিতায় সরব হয়েছিলেন অধীর তাতে প্রশ্ন উঠেছিল,আদৌ তাঁকে প্রদেশ সভাপতি পদে রাখবে তো হাইকমান্ড? সেই জল্পনার মাঝেই ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম শরিক তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে এসে বৈঠকও করেন কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ নবান্নে আসেন কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক হয় বলেই জানা গিয়েছে। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে চিদাম্বরমের কি কথা হয়েছে তা নিয়ে অবশ্য প্রকাশ্যে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কিছু বলা হয়নি। প্রবীণ কংগ্রেস নেতাও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি ৷ তবে মনে করা হচ্ছে লোকসভা নির্বাচনের পর আরও একবার কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেস কাছাকাছি আসতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় কংগ্রেসের দূত হিসাবেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে বলে সূত্রের খবর। আর সেই বৈঠকের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না-কাটতে দলের রাজ্য সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন অধীর।
চিত্র:-উইকিপিডিয়া
