জাতীয়জেলারাজ্যলাইফস্টাইলহাওড়া

যোগ দিবসে সর্বভারতীয় হরিজন সেবক সংঘের হাওড়া শাখার অনুষ্ঠান

এই বাংলা 24:-বিশ্বের নানা ক্ষেত্রে অবদান রয়েছে ভারতের। বিজ্ঞান থেকে প্রযুক্তি,অনেক কিছুরই শুরু হয়েছিল এই ভারতের মাটিতে। বিশেষত চিকিৎসা বিজ্ঞানে অসামান্য অবদান রয়েছে ভারতীয়দের। ভারতই শিখিয়েছে প্লাস্টিক সার্জারির মত শল্যচিকিৎসার সাথে সাথে যোগ চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ দিক।যেমন প্রাচীন দন্ত চিকিৎসা আজ থেকে ৭০০০ খ্রী: পূ: দন্ত চিকিৎসা নিয়ে গবেষণার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে এই ভারতে। এমনকি যখন মেহেরগড়ে মাটি খুঁড়ে মিলেছে দাঁতের সমস্যা সারানোর যন্ত্রপাতি,দাঁতের ড্রিল করার যন্ত্রও।আরেকটি হচ্ছে আয়ুর্বেদ,শুরুটাও ভারতেই যা আজ বিশ্বের নানা প্রান্তে স্বীকৃতি পেয়েছে।এর শুরু ৫০০০ খ্রী: পূ:। গাছ-গাছড়া থেকে গৃহীত রস, খনিজ পদার্থ দিয়েই হয় এই চিকিৎসা। অনেক কঠিন রোগও সারানো সম্ভব এই পদ্ধতিতে।আর আছে প্লাস্টিক সার্জারি,ঐতিহাসিকরা বলেন, ২০০০ খ্রী:পূ: ভারতই আবিষ্কার করেছিল শল্যচিকিৎসার এই বিশেষ দিক, প্লাস্টিক সার্জারি। সুশ্রুতকেই এই শল্যচিকিৎসার জনক বলা হয়। তাঁর বই থেকেই এই চিকিৎসা পদ্ধতি ছড়িয়ে যায় ইউরোপ সহ অন্যান্য প্রান্তে।আরেকটি হচ্ছে চোখের সার্জারি, ভারতেই প্রথম হয় ক্যাটারাক্ট সার্জারি নামে চোখের এক বিশেষ ধরনের অপারেশন। ‘জবামুখী শলাকা’ নামে এক বিশেষ যন্ত্রে করা হত এই অপারেশন। এই সার্জারি শিখতে একসময় ভারতে এসেছিল গ্রিক বিজ্ঞানীরাও। এমনকি চিনও ভারতের কাছ থেকেই শিখেছিল এই সার্জারি।তেমনি হচ্ছে যোগ চিকিৎসা বা ব্যায়াম।

উল্লেখযোগ্য যে যোগের ঐতিহ্য প্রায় ৫০০০ বছরের পুরানো। যোগব্যায়াম শুধু ব্যায়ামের একটি শাখা নয় বরং একটি নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে আসন বা ধ্যানের মাধ্যমে শরীর-মনকে রোগমুক্ত করে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে৷যোগ একটি প্রাচীন শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন ।

হাড়, পেশী, হৃৎপিণ্ড, পরিপাকতন্ত্র এবং মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।নিয়ম ও শৃঙ্খলার সঙ্গে নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন তারা দীর্ঘ এবং সুস্থ জীবনযাপন করেন।সর্বভারতীয় হরিজন সেবক সংঘের হাওড়া শাখার উদ্যোগে এইদিন এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় হরিজন সেবক সংঘের পশ্চিমবঙ্গ শাখার কার্যপরিষদের সদস্যা শিখা সান্যাল,লালবাবা কলেজের অধ্যক্ষ ড.সঞ্জয় কুমার, হাওড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি শৈলেশ্বর পান্ডা, হাওড়া প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি দ্বয় শৈবাল বসু ও বাণীব্রত কাড়ার এবং হাওড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুজিত কুমার পাল।

অনুষ্ঠানে বক্তারা যোগের গুরুত্ব এবং রোগ মুক্তির উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন রাখাল চন্দ্র দাস।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দেবাশিস শাসমল, সভাপতি বাসন্তিদেবী ট্রাষ্ট,রাজিব সেনাপতি, শিক্ষক এইচএসএস হোটেল ম‍্যানেজমেন্ট ট্রেনিং,শঙ্কর চন্দ্র জানা, এইচএসএস-এর সহ-সম্পাদক মদন মান্না, শিক্ষক, এইচএসএস টেলারিং সেন্টার,শেলি পাত্র, সদস্যা এইচএসএস,সৌমি দত্ত, শিক্ষিকা এইচএসএস যোগা সেন্টার।
সঙ্গীত পরিবেশন করেন গীতশ্রী দে, সুচিত্রা বোস,
শিশু শিল্পী অঙ্কিতা মাইতি, কবিতায় আকাশ গুপ্তা, কবিতা, ম‍্যাজিক, যোগাসন এবং সঙ্গীতে বিভিন্ন বাদ‍্যযন্ত্র বাজিয়ে সহযোগিতা করেন গৌতমানন্দ প্রামাণিক, মুক্ত শিশু কেন্দ্রের শিশুরা যোগ ব‍্যায়াম, সঙ্গীত ও কবিতা পরিবেশন করে।
অন‍্যান‍্য যারা উপস্থিত ছিলেন বীণা গাঙ্গুলি, সুনন্দা দে, শেফালী চৌধুরী, হোটেল ম‍্যানেজমেন্টের ছাত্রছাত্রী, মুক্ত শিশু কেন্দ্রে ছাত্রছাত্রী, সংঘের শুভানুধ্যায়ী, হরিজন সেবক সংঘের অফিস কর্মী সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মীবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *