………………. আ**ন্দোলনের চি**তা……………..(অঙ্কন সরকার)
এই বাংলা 24, অঙ্কন সরকার:-

সকলেই তো জানে আন্দোলন চলছে। আলবাৎ চলবে, নিকৃষ্টতম অপরাধ হয়েছে ‘অভয়া’র সঙ্গে। তাই আন্দোলন চলবে বৈকি। কিন্তু সমস্যাটা আন্দোলন নিয়ে নয়, সমস্যাটা আন্দোলনের চুলায় অধিকাংশের নিজস্ব স্বার্থের রুটি সেঁকে নেওয়ায়।
গোড়া থেকেই আমার আপত্তি চিকিৎসকদের কর্মবিরতি নিয়ে। কিন্তু বলতে গিয়ে এটাই শুনতে হয়েছে, চিকিৎসাবিভ্রাটের প্রমাণ কোথায়। অবশেষে আশঙ্কা সত্যি করে মিললো জ্বল-জ্যান্ত প্রমাণ। একটু আনন্দিত হতে পারিনি প্রমাণ সামনে আসার উল্লাসে।
বরং বুকটা আরও একবার মোচড় দিলো সন্তানহারা মায়ের বুকফাটা হাহাকার শুনে। অদ্ভুতভাবে এই মা-ও নির্যাতিতার উপর হওয়া অন্যায়ের দাবিতে চলা আন্দোলনের বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু নিজের চোখের সামনেই প্রায় বিনা চিকিৎসায় যখন দূর্ঘটনায় আহত তাঁর নিজেরই সন্তানের প্রাণ চলে যায়, তখন কি ক্ষমা করতে পারবেন তিনি সেই সব অপদার্থের যারা আন্দোলনের দোহাই দিয়ে নিজেদের কর্তব্য ভুলে যায়। নাকি সন্তানহারা যখন বলেন চিকিৎসকরা তাঁর আকুতিতে কর্ণপাত না করে তাঁকে অন্য কোনও বেসরকারি নার্সিংহোমে চলে যেতে বলেছিলো, তখন তাঁকেও বিশ্বাস করা যাবে না।
না, আমি এঘটনায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দলের হস্তক্ষেপের আবেদন বা দাবি কোনোটাই করছি না। কারণ তাঁদের সদিচ্ছা বা কর্মদক্ষতা উভয়েরই স্বচ্ছতা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। কিন্তু সেই মায়ের কথামতোই আমারও প্রশ্ন এই ঘটনার বিচার করবে কে? নাকি এরকম আরও অনেক ‘বিক্রম’কে আত্মবলিদান দিতে হবে ‘দফা এক, দাবি এক’ এর চিৎকারে।
দেবীপক্ষের আর এক মাসও বাকি নেই, মা দুর্গা আসছেন। কিন্তু সন্তান গর্ভে নিয়ে যে ‘দুর্গা’কে চলে যেতে হলো তার কি? ‘চাক্কা জ্যাম’ করে হাততালি কুড়ানো ‘নেতা’রা নেবেন দায়? ফিরিয়ে দিতে পারবেন স্ত্রী এবং আসতে চলা সন্তান হারানো মানুষটার মুখের হাসি।
যে আন্দোলনে নিরাপরাধের রক্ত লেগে থাকে, তার জন্য অন্তর থেকে জানাই ধিক্কার। কোনও মৃত্যুকেই হালকা ভাবে নেবার ইচ্ছা বা প্রবৃত্তি আমার নেই। অতি সাধারণ আমি সকলের কাছে এটুকু অনুনয় জানাই, দয়া করে আন্দোলনকে নিরাপরাধের ‘চিতা’ বানিয়ে ফেলবেন না।
