লাইফস্টাইলসাহিত্য সংস্কৃতি

ডাক….১৭৫৭

এই বাংলা 24:-ডাক…১৭৫৭ সাল। পলাশীর যুদ্ধ শেষ হল। কোম্পানি, অর্থাৎ ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির নিশান উড়ল তামাম বাংলা জুড়ে। ইংরেজ নায়ক ক্লাইভের আনন্দ আর ধরে না। এবার তিনি নজর দিলেন দখল করা দেশের উন্নতির দিকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল করবার জন্যে নির্দেশ দেওয়া হল। সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত ডাক চলাচলের ব্যবস্থাও হল। ওই বছর কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ, ঢাকা, রাজমহল প্রভৃতি জায়গা পর্যন্ত চিঠি বিলির ব্যবস্থা হয়।১৭৭৪ সালে ওয়াবেন হেস্টিংস ডাক ব্যবস্থার কিছুটা উন্নতি করেন৷ ১৭৯৫ সালের তেসরা মার্চ ডাক বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে কলকাতা থেকে বিভিন্ন জায়গায় আড়াইতোলা ওজনের চিঠিপত্র পাঠাবার মাশুল ছিল এই রকম—কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ, শাস্তিপুর–ছ’আনা, ব্যারাকপুর, চন্দননগর– এক আনা, রাজমহল, কটক—তিন আনা, মুঙ্গের—চার আনা, চট্টগ্রাম—ছ’ আনা, পাটনা ——পাঁচ আনা, কাশী সাত আনা, হায়দরাবাদ-বার আনা, মাদ্রাজ—-একটাকা দশ পয়সা, পূনা—একটাকা চার আনা।১৭৮৪ সালে কলকাতার ডাকবিভাগ থেকে জানানো হয়—বর্ষার সময় রাস্তাঘাটের অবস্থা দারুন খারাপ থাকে বলে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারমাস ডাক বিলি বন্ধ থাকবে। ১৭৮৪ সালে পোষ্টমাষ্টার জেনারেল সি ককটেল জানিয়েছিলেন সাড়ে ন’ইঞ্চি লম্বা চার ইঞ্চি চওড়া বড় মাপের খাম ডাকে পাঠানো চলবে না। প্রত্যেক সোমবার আর বৃহস্পতিবার বড় ডাকঘরে ওই সব খামের চিঠিপত্র নেওয়া হবে।বর্ষার সময় কলকাতা তখন অন্যমূর্তি ধারণ করত। তাই বর্ষাকালে নৌকোয় ডাক বিলির ব্যবস্থা করা হয়। পোস্টমাষ্টার জেনারেল একটা নোটিশ দিয়ে জানান, ডাক পালকিতে যাত্রীও নেওয়া হবে।১৭৮৪ সালের দোসরা ডিসেম্বর পোস্টমাষ্টার জেনারেল কলকাতা থেকে বিভিন্ন অঞ্চলে চিঠিপপত্র পাঠানোর ডাকমাশুলের হার ঘোষণা করেন। তখনো ডাক টিকিটের প্রচলন হয়নি। যিনি চিঠি পাঠাতেন তাঁর চিঠি ডাকঘরে ওজন করার পর ডাকমাশুল ধার্য করা হত। ডাক বাহক চিঠির প্রাপকের কাছ থেকে মাশুল নিয়ে চিঠি বিলি করত।১৭৮৯ সালে কলকাতা থেকে বোম্বাই পর্যন্ত ডাকে চিঠি বিলির ব্যবস্থা হয়। ১৭৯৫ সালে কলকাতা থেকে কোম্পানির কারেন্সি নোট ডাকে পাঠাবার ব্যবস্থা চালু করা হয়। ব্যবস্থাটা ছিল এই রকম— কেউ টাকা পাঠাতে চাইলে খোলা খামে সেই টাকা ভরে ডাকঘরের কর্মচারীকে দিতেন। তিনি টাকা জমা করে নিয়ে প্রেরককে রসিদ লিখে দিতেন। ডাক মাশুল ধার্য করতেন ডাক বিভাগের কর্মী রিচার্ড অ্যামুটি। তাঁর অফিস ছিল কলকাতার কাউন্সিল হাউস স্ট্রীটে। উন্নত ধরণের ডাকটিকিট চালু হয় ১৮৩৭ সালে। কলকাতার টাঁকশালের কর্নেল ফরবেসের নক্সা অনুযায়ী তালগাছের ছবিওয়ালা ‘দু’আনা দামের টিকিট প্রথমে ছাপা হয়। এরপর ইংলণ্ডের দেলারু কোম্পানির কাছ থেকে টিকিট তৈরি হয়ে আসত। ১৮৫৪ সালের মে মাস থেকে ১৮৫৫ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত কলকাতায় ডাকটিকিট ছাপা হয়েছিল ৪,৭৭,৩২,৪৯৬ খানা। সে সময় আধআনা বা দু’পয়সার টিকিট ছিল নীল রঙের, এক আনার টিকিট লাল আর চার আনার টিকিটের রং ছিল লাল-নীল মেশানো। এই সময় থেকেই সব জায়গায় এক দামের টিকিট চালু হয়। ১৮৪৫ সালে মোট চিঠি বিলি হয়েছিল ৩২, ৯১, ৬১, ৮১১ খানা । সুকান্তর কবিতা আর হেমন্তের গানে এখনও অমর হয়ে থাকা বাংলার রানার।কলকাতা তথা ভারতে প্রথম টেলিগ্রাফ লাইন খোলা হয় ১৮৪৯ সালের ৫ নবেম্বর। প্রথমে লাইন খোলা হয় কলকাতা থেকে ডায়মণ্ডহারবার পর্যন্ত। সেই লাইন তখন সরকারি কাজেই ব্যবহার করা হত। যাঁর চেষ্টায় প্রথম টেলিগ্রাফ লাইন খোলা হয় তাঁর নাম স্যার উইলিয়ম ব্রুক ওশাগ নেসি। তিনি ছিলেন বেঙ্গল আর্মির ডাক্তার। তিনিই প্রথম কলকাতা থেকে বেদগিরিতে টেলিগ্রাফ লাইন বসানোর কাজে সফল হয়েছিলেন। এই লাইন বসার দরুন বার্মার সঙ্গে যুদ্ধের সময় খুব সুবিধে হয়েছিল। সর্ব সাধারণের জন্যে টেলিগ্রাফ চালু হয় ১৮৫১ সালের ১ ডিসেম্বর। ১৮৫৪ সালের ২৪ মার্চ কলকাতা থেকে আগ্রা পর্যন্ত টেলিগ্রাফ লাইন চালু হয়।

চিত্র ও তথ্য লেখা:-সংগৃহীত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *