অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ,নিহত সাংবাদিক সহ অনেকে

এই বাংলা 24 (সংবাদদাতা):-ভয়াবহ পরিস্থিতি বাংলাদেশের। সরকারি চাকরিতে কোটা বা সংরক্ষণে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলন কার্যত অগ্নিগর্ভ চেহারা নিয়েছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ–যুবলীগের সংঘর্ষ চলছে দফায় দফায়। অগ্নিগর্ভ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও বিভিন্ন সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২, তাঁদের মধ্যে একজন সাংবাদিক রয়েছেন। আহতের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ–যুবলীগের সংঘর্ষ চলার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত আরও চারজনের মরদেহ এসেছে। তাঁদের মধ্যে একজন সাংবাদিক রয়েছেন।
নিহত সাংবাদিক হাসান মেহেদী ঢাকা টাইমসে কর্মরত বলে জানা গেছে। সন্ধ্যার পর যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে তাঁকে আনা হয়েছে বলে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তাঁর শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে।
নিহত অপর তিনজনের মধ্যে ওয়াসিমকে (৩০) আনা হয় যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ত এলাকা থেকে। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহত নাজমুলকেও যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে আনা হয়েছে। আনুমানিক ২০ থেকে ২২ বছর বয়সী নাজমুলের শরীরে কোপের আঘাত রয়েছে।এছাড়া নিহত মোহাম্মদকে আনা হয়েছে আজিমপুর এলাকা। আনুমানিক ২০ বছর বয়সী মোহাম্মদের শরীরে গুলির ক্ষত রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নাজমুলের স্বজনেরা উপস্থিত হয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, নাজমুল ব্যবসায়ী। ঘটনার ঘণ্টা দুয়েক আগে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সংঘর্ষের মধ্যে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে নরসিংদীতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তাহমিদ তামিম (১৫) ও মো. ইমন মিয়া (২২) নামে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে ইমন এবং জেলা হাসপাতালে তাহমিদের মৃত্যু হয়েছে।
চট্টগ্রাম নগরেও সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দার হাট এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগের সংঘর্ষের মধ্যে তাঁরা গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের একজন পটিয়া সরকারি কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্র মোহাম্মদ ইমাদ (১৮)। আরেকজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাঁর বয়স ২২ বছর।
বিকেলে এই দুজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিন তালুকদার জানিয়েছেন।
চিত্র:-উইকিপিডিয়া
