কলকাতাজাতীয়জেলারাজনীতিরাজ্য

এমপি,এমএলএ থেকে সবাইকে বলছি,কোনও অভিযোগ যেন না আসে,দল কিন্তু ব্যবস্থা নেবে:-তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এই বাংলা 24:-একুশের জুলাইয়ের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সরাসরি তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি দলের জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এমপি, এমএলএ থেকে সবাইকে বলছি। কোনও অভিযোগ যেন না আসে। দল কিন্তু ব্যবস্থা নেবে।’ তাঁর কথায়, অন্যায় করলে আমি তৃণমূলকেও ছাড়ি না। দুর্নীতি এবং দলের একটি অংশের নেতাদের বিরুদ্ধে সেই প্রসঙ্গে ওঠা একাধিক অভিযোগে নানা সময়ে বিদ্ধ হয়েছে তৃণমূল।তাঁর কথায়, ‘বিত্তবান চাই না। বিবেকবান চাই। সাধারণ ভাত, রুটি খেয়ে থাকব। অন্যায়ের সঙ্গে বা দুর্নীতির সঙ্গে আপস করব না। আমরা যত জিতব তত আমাদের নম্র হতে হবে, দায়িত্ব বাড়বে।’

একইসঙ্গে কর্মীরাও যাতে দুর্নীতি আটকাতে এগিয়ে আসেন তার জন্য উপস্থিত কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘অন্যায় বা দুর্নীতিতে কেউ জড়াবেন না তো? প্রতিবাদ করবেন তো? আজ এখান থেকে এই শপথ নিয়ে যান।’ পাশাপাশি তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘নির্বাচিত হয়েও যে সমস্ত জনপ্রতিনিধিরা পরিষেবা দেবেন না তাঁদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক থাকবে না।’তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘আমরা যত জিতব, তত আমাদের নরম হতে হবে, তত আমাদের দায়িত্ব বাড়বে৷ তত আমরা মানুষের কর্মী হতে পারব। তৃণমূল কংগ্রেস মানে কোনও একটা রাজনৈতিক দল নয়, এটা মানুষের দল। আমি বিত্তবান চাই না, বিবেকবান চাই, যাঁদের আবেগ আছে, অশ্রু আছে, আমি তাঁদের চাই। দলের জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করে তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, ‘যাঁরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়েও পরিষেবা দেবেন না তাঁদের সঙ্গে আমরা কোনও সম্পর্ক রাখব না।’ দুর্নীতি, সালিশির নামে মানুষের উপর অত্যাচার, দাদাগিরির মতো যে যে অভিযোগ তৃণমূলের নিচুতলার নেতাদের বিরুদ্ধে উঠছে, তাতে যে তিনি বিব্রত, তা এ দিন মমতার বক্তব্যেই স্পষ্ট৷তিনি বলেন. ‘কাউকে বাদ দিয়ে বা অবহেলা করে নয়। যদি কোনো পুরানো সাথী রাগ করে গিয়ে বসে থাকে, তাহলে তার সঙ্গে কথা বলে তাকে ফিরিয়ে আনুন।’

তিনি তার বক্তব্যে আরো বলেন যেখানে যেখানে জিতেছেন, ভাল করে মানুষকে গিয়ে ধন্যবাদ জানাবেন। পারবেন না, দলকে জানাবেন। আর যেখানে আমরা জিতিনি, সেখানে ঘরে ঘরে গিয়ে বলবেন, আমাদের ক্ষমা করবেন, হয়তো আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে কোথাও খামতি ছিল, আগামী দিনে দেখব। বড় গাড়িতে ঘোরার থেকে স্কুটার, সাইকেলে ঘোরা ভালো।এখনও তো ওরা মেজরিটি পায়নি। অখিলেশজি থাকলে, পুরো হিন্দুস্তানে আমরা সফল হব। এক সঙ্গে কাজ করব। বিজেপির তো মেজরিটি পায়নি। কাউকে কাউকে কিনে, শেয়ার কেলেঙ্কারি করে, কখনও শুনেছেন, টাকা নিয়ে মিনিস্ট্রি দেননি, টাকা দিয়ে দল কিনে নিয়েছেন, এরা এমন, বিবেক হারিয়েছে। কী বৃষ্টি গায়ে লাগল, একবার স্নান করব, ধুয়ে যাবে, নোংরা মনে লাগলে, ধোয়া যাবে না। কেউ যেন আপনাদের লোভী বানাতে না পারে, ভাত রুটি খেয়ে থাকব, কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে আপোস করব না। যারা ইলেক্টেড হয়ে পরিষেবা দেবেন না, তাঁদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক রাখব না।১০ হাজার কোটি টাকার বেশি স্বাস্থ্য সাথী কার্ডে মানুষকে পরিষেবা দিয়েছি। তৃণমূল মানুষের সামাজিক বন্ধু হবে। আমি বিবেকবান চাই, বিত্তবান চাই না। পয়সা আসে, চলে যায়। সেবার কোনও বিকল্প নাই।সব পৌরসভা, পঞ্চায়েত, এমএলএ, এমপি, প্রধান সবাইকে বলব, কারোর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ যেন কেউ না পায়। যদি কোনও অভিযোগ ওঠে, আমরা কিন্তু উপযুক্ত অ্যাকশন নেব। গরিব থাকুন, যা আছে ঘরে, তাই খেয়ে বেঁচে থাকুন। তাহলেই আপনাদের কেউ সরাতে পারবে না: মমতা।আমরা দায়িত্বে আসার কয়েক বছর আগেও বাংলার দারিদ্র সীমার নীচে ছিলেন ৫৭.৬০ শতাংশ মানুষ। মা মাটি মানুষের সরকারের আমলে এটা এসেছে মাত্র ৮ শতাংশে। ৪০ শতাংশের ওপর দারিদ্রতা কমিয়েছি। ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষ দারিদ্রসীমার থেকে বেড়িয়ে এসেছে। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছি।বাংলা একমাত্র জায়গা, যেখানে পার্লামেন্টে আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হলেন ৩৮ শতাংশ। নির্বাচনের আগে অনেকেই বলেন, মহিলাদের জন্য রিজারভেশন চাই। আমরা প্রমাণ করে দেখিয়েছি। আমরা লোকসভায় ৩৮ শতাংশ নির্বাচিত প্রতিনিধি পাঠিয়ে দিয়েছি।উত্তরবঙ্গে আমাদের ফল খুব ভাল হয়নি। আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কোচবিহার, রায়গঞ্জ, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারের মানুষকে ধন্যবাদ। মালদহে লোকসভা নির্বাচনে আমরা জিতিনি, আমি জানি না কেন আপনারা আমাদের ভুল বুঝলেন, হয়তো আমাদেরই দুর্ভাগ্য। একটা সিট বিজেপিকে, একটা কংগ্রেসকে। ওরা কোনওদিন কিছু করেছে আপনাদের জন্য। তাও ভুল বুঝিনি আমি। আমি বিশ্বাস করি, ছাব্বিশের মালদহের আম আমসত্ত্ব আমরা পাবই।অখিলেশের পর মঞ্চে বক্তব্য রাখছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,মুম্বইতে আপনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল। আর সেখানে আপনি আমার এক কথাতেই রাজি হয়ে গিয়েছিলেন। আপনি এখানে কিরণময় নন্দ, লোলিতজি সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এসেছেন। আপনার হাত ধরেই বাংলার সঙ্গে হিন্দুস্তানের সম্পর্ক মজবুত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *