জাতীয়রাজনীতিরাজ্য

শূন্য থেকে মহাশূন্যে তলিয়ে যান:-সৌরভ সিংহ

এই বাংলা 24, সৌরভ সিংহ:-বর্তমান অস্থির সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে আমাদের প্রাণের বাংলা। পশ্চিমবঙ্গ এক সুন্দর সাংস্কৃতিক রাজ্য, কিন্তু একে কালিমালিপ্ত করার জন্য কিছু রাজনৈতিক শক্তি এগিয়ে এসেছে।এমন এক শক্তি যারা ৩৪ বছর ধরে শুধুই অপশাসন করে এসেছেন।আজ তারা এক ইস্যু নিয়ে রাজ্য কে কালিমালিপ্ত করতে পিছপা হচ্ছেন না। প্রত্যেক দলের ভালো খারাপ উভয় থাকে। কিন্তু ভারতের মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির খারাপের সংখ্যা বেশি।আসলে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির অনেকেই ভালো ছিলেন,যারা রাজনৈতিক কুৎসা করে,তারাই পরে মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টি তে যোগ দেন।না না আমি কোনো চারিত্রিক বিষয়ে আলোকপাত করতে চাইনা।আমি তাদের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলছি।ইস্যুকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের তকমা দিয়ে এক আন্দোলন চলছে।১৪ আগস্টের আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তা ছিল, সেখানে সাধারণ মানুষের পদচারণা দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু সেই সাধারণের মাঝে অসাধারণভাবে ভারতের মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির কিছু সভ্য সভ্যা, বিশেষ করে কিছু যুবক যুবতী,সেই সাধারণ মানুষের পদচারণায়,নিজেরা সাধারণ না থেকে অসাধারণ হয়ে হুইসপ্যারিং ক্যাম্পেনিং গোদা বাংলায় যাকে বলে কান ভাঙানো, করতে থাকে।অনেক কে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি,তাই চিহ্নিতকরণ করাতে সুবিধা।ছেলে মেয়ে গুলো ভালো ব্যক্তিগত ভাবে, কিন্তু বুঝলাম এদের কিছু করার নেই, এদের সুন্দর করে মগজ ধোলাই হয়ে গেছে।এরা অনেকেই, দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, পূর্বের ইতিহাস জানেননা।জানার চেষ্টা করেননা বা জানতে দেওয়া হয় না।এটাই স্বাভাবিক।আসলে মুখোশধারী এই কমিউনিস্ট পার্টি, অবশ্যই তখন অবিভক্ত ছিল,এরা একপ্রকার ব্রিটিশদের দালাল ছিল।আমরা যারা পশ্চিমবঙ্গবাসী,তাদের কাছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু হচ্ছেন আদর্শ।আমরা সর্বদা বলে থাকি,এটা নেতাজির বাংলা। ঈশ্বরের আসনের পাশে নেতাজির ঠাঁই। কিন্তু নেতাজি কে এরা কোথায় নামিয়েছিল তা বর্তমান প্রজন্ম জানেনা।

১৯জুলাই ১৯৪২; ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সেই সময়ের মুখপত্র; ‘পিপলস ওয়ার’-এর দ্বিতীয় খণ্ডের প্রথম পৃষ্ঠায়; প্রকাশিত হয় একটা কার্টুন। জাপানী প্রধানমন্ত্রী তোজোর হাতে দড়িতে বাঁধা; নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু।তখন গোটা দেশে; সেই সুভাষ চন্দ্রের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রধান দুই শক্তি – পণ্ডিত নেহেরু আর তার সহযোগিতায় লিপ্ত কংগ্রেস আর একদিকে সুভাষের বিরুদ্ধে সোচ্চার কমিউনিস্ট পার্টি।পিপলস ওয়ার’ পত্রিকার ১৩ সেপ্টেম্বর ১৯৪২ তারিখের সংখ্যায় মহারাষ্ট্রের শ্রীনিবাস গণেশ সরদেশাই এবং ১৮ জুলাই ১৯৪৩ তারিখে গঙ্গাধর অধিকারী লাগাতার নেতাজি সুভাষের নামে মিথ্যে কুৎসা ছড়াতে শুরু করেন।পূর্বোক্ত তৎকালীন সিপিআইয়ের নেতা তথা সিপিআই পার্টির ইতিহাস রচনাকারী বিশিষ্ট কমিউনিস্ট গঙ্গাধর অধিকারী, ১৮ জুলাই ১৯৪৩; ‘পিপলস ওয়ার’ পত্রিকায় লেখেন -“হিটলার সুভাষ বসুকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তোজোর কাছে পাঠিয়েছে, তোজো সুভাষকে ‘দেশগৌরবী’ বানিয়েছে; ভারতীয় সেনার চীফ কম্যান্ডার বানিয়েছে”।তিনি আরও লেখেন -“বোস রোজ সিঙ্গাপুর রেডিওতে চিৎকার করছে। হিটলার; তোজো আর সুভাষ বোসের ষড়যন্ত্র আমাদের কাছে সম্পূর্ণ পরিষ্কার। আমার আমাদের ভাই চীনের স্বার্থে এই চক্রান্ত ধ্বংস করবো”।সেপ্টেম্বর ১৩ ১৯৪২ ; ‘পিপলস ওয়ার’ পত্রিকার প্রকাশিত হল আরও একটি কার্টুন; সঙ্গে এস জি সরদেশাই এর একটি লম্বা বিবৃতি। সেখানে তিনি লিখেছিলেন সুভাষ ও গান্ধী আসলে একসাথে আছে। সেদিন কমিউনিস্ট পার্টির নেতা এস জি সরদেশাই এটা বোঝেননি যে রাজনৈতিক পার্থক্য থাকলেও নেতাজি আর গান্ধীজি দুজনেই স্বাধীন ভারত চাইছেন।এরা জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী কেও অপমান করতেও ছাড়েনি।নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কে তো তলানিতে নামিয়ে ছেড়েছিল।

ব্যক্তিগত কুৎসা করা এদের মূল মন্ত্র।এরা বলেছিল “এ আজাদি ঝুটা হ্যায়”,এরা স্বাধীনতার সময় থেকে ৭৪ বছর জাতীয় পতাকা হাতে নেননি। স্বাধীনতার ৭৫ বছরে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়েছে।কারণ হিসেবে জনৈক এক ভদ্রলোক আমাকে বললেন,’’কোম্পানির নাম খারাপ হয়ে গেছে। তাই নিরপেক্ষ পতাকা হাতে আন্দোলন করতে হচ্ছে”।সত্যি তাই কোম্পানির নাম খারাপ হয়ে গেছে।আসলে এই কোম্পানি বরাবরই খারাপ ছিল।স্বাধীন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কিরণ শঙ্কর রায় এবং মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২০ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন,তারপরে বিধানসভায় শোক প্রস্তাবে উঠে পর্যন্ত দাঁড়াননি তৎকালীন কমিউনিস্ট নেতা জ্যোতি বসু।এরা প্রফুল্ল চন্দ্র সেন ও অমুল্য ঘোষের নামে কুৎসা করেছে।তারা নাকি স্টিফেন হাউসের মালিক। কিন্তু আজীবন সাদামাটা জীবন যাত্রা,সহায় সম্বলহীন ছিলেন।এরা ইন্দিরা গান্ধী কে ডাইনি বলতে পিছপা হয়নি।এরা দেওয়ালে দেওয়ালে লিখতো:-১) দুআনা সের বেগুন কিনেমন হলো প্রফুল্ল‚বাড়িতে এসে কেটে দেখিকানা অতুল্য।২) ইন্দিরা মাসি বাজায় কাঁসি,প্রফুল্ল বাজায় ঢোল।আয় অতুল্য খাবি আয়,কানা বেগুনের ঝোল।৩) মাছের শত্রু কচুরিপানা‚দেশের শত্রু অতুল্য কানা।অশোককৃষ্ণ দত্ত তাঁর মিডলটন রোডের ফ্ল্যাটে প্রফুল্ল সেনকে শেষজীবনে থাকতে না দিলে, হতভাগ্য এই লোকটি হয়তো বৃদ্ধ বয়সে থাকার জায়গাও পেতেননা!এই দুই মানুষ ছিলেন নাকি স্টিফেন হাউসের মালিক কমিউনিস্ট কথা অনুযায়ী।মনে পড়ে কমরেড?এদের ৩৪ বছরের কীর্তি কলাপ অন্য লেখায় লিখবো।অবাক লাগে,একটা ঘটনা কে কেন্দ্র করে যে কেস সিবিআই দেখছে, সেখানে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি এহেন আচরণ রাজনৈতিক অভিসন্ধি গন্ধ পাওয়া যায়। এদের জীবনযাত্রা কুৎসা দিয়ে শুরু,কুৎসা দিয়ে শেষ। যতদিন এই দল থাকবে, ততদিন এরা কুৎসা করে যাবে।অতীতে নেতাজি, প্রফুল্ল চন্দ্র সেন,অমুল্য ঘোষ থেকে শুরু বহু মানুষের বিরুদ্ধে কুৎসা করে যায়,অধুনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।জাতীয় পতাকা নিয়ে বীরাঙ্গনা সেজে আজাদির গান গাইছে জেএন‌ইউ র এককালের ছাত্রী দীপ্সিতা ধর।যিনি ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ১৫ বছরের বিধায়ক ছিলেন পদ্মনিধি ধরের নাতনি।প্রশ্ন একটাই এটাই,দেশ তো স্বাধীন,তা হঠাৎ আজাদি স্লোগান কেনো পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মতো?আপনারা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চান,আমরা বলছি প্রকাশ্যে আপনাদের প্রতিটি নেতা কর্মী কান ধরে নাক খত দিয়ে, একশোবার উঠ বস করে ক্ষমা চান যে নেতাজির অপমান করে ভুল করেছি, প্রফুল্ল চন্দ্র সেন ও অতুল্য ঘোষ সহ যে সব মানুষদের অপমান করে ভুল করেছি,বলুন ধানতলা,বানতলা,একুশে জুলাই,বিজন সেতু আনন্দমার্গী সাধুদের হত্যা, মরিচ ঝাঁপি ৩০০ জন হত্যা সহ বহু ঘটনায় আমরা দোষী।আগে ক্ষমা চান,তারপরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা মুখে আনবেন। আপনাদের শাস্তি হোক বাংলার জনগণ আপনাদের বয়কট করুক। শূন্য থেকে মহাশূন্যে তলিয়ে যান।

(নেতাজির এই ধরনের চিত্র পরিবেশনের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী,লেখার জন্য দিতে হয়েছে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *