সীমার মাঝে,”অসীম”সেনগুপ্ত

এই বাংলা 24:-এবছর বিশিষ্ট তবলা বাদক অসীম সেনগুপ্ত ৭০ বছর পূর্ণ করলেন।সেই উপলক্ষে সালকিয়া এ.এস.হাই স্কুলে এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার উপহার দেন অসীম সেনগুপ্তর হাতে গড়া ছাত্র ছাত্রীরা। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক গৌতম চৌধুরী ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিশির কুমার চক্রবর্তী।আর ছিলেন অসীম সেনগুপ্তর স্নেহধন্য বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সংযুক্তা দে।

অসীম সেনগুপ্ত কৈশোর থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তার ছিল অসীম অনুরাগ। প্রথমে স্থানীয় শিল্পী শ্রী নির্মল চক্রবর্তী ও মুক্তা লাল কুন্ডুর কাছে শুরু তাঁর প্রাথমিক তবলা শিক্ষা। সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সঙ্গীত শিল্পীর সঙ্গে অনুষ্ঠানে সহযোগিতা। এরপর স্বনামধন্য শিল্পী ডঃ অনুপ ঘোষালের সান্নিধ্যে আসেন অসীম সেনগুপ্ত। অনুপ ঘোষাল ছিলেন অসীমের ভ্রাতৃপ্রতিম। দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশীসময় দেশে বিদেশে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, রেকর্ডে, চলচিত্রে অসীম ছিলেন তাঁর যথার্থ সহকারী। দু’জনের জুড়ি ছিল গুপী বাঘার মত। এরপর গুরুরূপে বরণ করেন পন্ডিত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষকে। পন্ডিত জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের সান্নিধ্যে ও শিক্ষায় নিজেকে করে তোলেন ঋদ্ধ ও সমৃদ্ধ। অসীমের চলচিত্রে প্রবেশ নিজের জ্যাঠা মশাই অতীত দিনের বিখ্যাত চিত্র পরিচালক মানুসেন-এর ‘বিরাজ বৌ’ ছবিতে। তারপর সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ‘সুকুমার রায় তথ্যচিত্রে’ তিনি বাজিয়েছেন। এছাড়াও সত্যজিতের ‘গুপী বাঘা ফিরে এলো, গনশত্রু, ঘরে বাইরে, শাখাপ্রশাখা’ ছবিগুলিতেও তিনি ছিলেন তালবাদ্য শিল্পী। তপন সিংহের হিন্দী ছবি ‘সফেদ হাতি’, গৌতম ঘোষের ‘পদ্মানদীর মাঝি’, ‘অন্তর্জলি যাত্রা’, প্রভাত রায়ের ‘শ্বেত পাথরের থালা’, উৎপলেন্দু চক্রবর্তীর ‘ছন্দনীড়’, নব্যেন্দু চ্যাটার্জীর ‘সরীসৃপ’ ছবিগুলিতেও তিনি বাজিয়েছেন। অজয়দাস ও অনল চ্যাটার্জীর সঙ্গে সহকারী সঙ্গীত পরিচালকের কাজ করেছেন। হিন্দি ছবি যেমন ‘আজ কা রবিন হুড’, ‘ম্যারেজ বুরো’, ‘এক ডাক্তার কে কাহানি’, ‘খুন কা পসিনা’ ইত্যাদি ছবিতেও তিনি ছিলেন অন্যতম সঙ্গতকার। তিনি ২০০ টির বেশী ছবিতে বাজিয়েছেন। তিনি টিভি সিরিয়াল ‘লোহিত কিনারে’ ভূপেন হাজারিকার সুরে বাজিয়েছেন। স্বর্ণযুগের যে সমস্ত শিল্পী বাংলার সঙ্গীতজগৎ কে সমৃদ্ধ করেছেন অসীম তাঁদের সঙ্গেও সঙ্গত করেছেন যেমন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, মান্না দে, ভূপেন হাজারিকা, সলিল চৌধুরী, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, আরতি মুখোপাধ্যায়, ফিরোজা বেগম, কনিকা বন্দোপাধ্যায়, অজয় চক্রবর্তী, শ্রীরাধা বন্দোপাধ্যায়আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও অসীমের খ্যাতি আছে। বিভিন্ন দেশে তিনি অনুষ্ঠান করেছেন যেমন আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ প্রভৃতি। আমেরিকায় বঙ্গ সংস্কৃতি সম্মেলনে তিনি তিনবার বাজিয়েছেন। আমেরিকায় বহু ছাত্রছাত্রীকে তিনি তবলা শিখিয়েছেন। দেশে বিদেশে বিভিন্ন সম্মান তিনি পেয়েছেন, যেমন- Georgia State University of Music, The Art Institute of Chicago, Houstan Durgabari, Dr. L. M. Singhvi High Commissioner for India, Kachi Kanthar Ashar Bangladesh, Vivekananda Vedanta Society, Chicago Sangeet Bisarad (Sarbo Bharatiya Sangeet-O-Sanskriti Parishad, West Bengal). আমেরিকার অর্ল্যান্ডো থেকে প্রকাশিত হয় অসীমের তবলা সম্বন্ধীয় বই ‘তবলা’ অসীমের স্বপরিচালিত বাদ্যযন্ত্রের উপরে ক্যাসেট ও সিডিও প্রকাশিত হয়েছে। যেমন- পূজোর বাদ্যি বাজে, নানান তালের বাদ্যি, নাচো নাচো (পার্ট ১ এবং ২), পুজোর ঢাকে ও ঢোলে (পার্ট ১,২,৩), ঢাকে ঢোলে ও তালে, রিদম ও তাল, Indian Drums of Music ইত্যাদি। তাঁর ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে বহুজনে সঙ্গতকার হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন। আজও তিনি বহু ছাত্র ছাত্রীকে শিখিয়ে চলেছেন। আজ অসীম নিজেই এক প্রতিষ্ঠান। অভিনেতা পাহাড়ী সান্যাল বলেছিলেন “মরা চামড়ায় তুই প্রাণ দিয়েছিস, বাজা তোর একদিন হবে। উত্তম কুমারের ৫০ তম জন্মদিনে কলকাতার এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে তিনি একক শিল্পী হিসেবে তবলা বাজিয়েছেন এবং পেয়েছেন উত্তম কুমারের আশীর্বাদ।এদিনের অনুষ্ঠানে যাদের সুর মূর্ছনায় মুখরিত হলো তারা হলেন প্রিয়ম রায়,রঞ্জণা সাধুখাঁ (দত্ত) ,বাপি,সুব্রত সান্যাল,দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য,অনন্যা রায়,দীপক ঘোষ,অরত্রি নন্দী,সুব্রত ঘোষ,আভাষ সিং,তরুণ দাস, দেবাশিস মিত্র,সুকুমার কর,নবেন্দু বর্মণ,জয় দাস ,বাবলু মিত্র,অমিতাভ সাহা, অশোক ভট্টাচার্য,শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জী, শৈবাল চৌধুরী,ত্রিপর্ণা চৌধুরী,সৌনক সেনগুপ্ত,ইন্দ্রানী বনিক মজুমদার,নব্যেন্দু বর্মণ ও অমিতাভ সাহা। সমগ্র অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন সুকল্পা সরকার ও বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়।
