কলকাতারাজ্যলাইফস্টাইলসাহিত্য সংস্কৃতি

পটলডাঙা বসু মল্লিক বাড়ির পুজো

এই বাংলা 24, পল্লবী সরকার:-পটলডাঙ্গার বসু মল্লিকদের বাড়ির পুজো শুরু হয় ১৮৩১ সালে। পুজো শুরু করেছিলেন রাধানাথ মল্লিক, যিনি পরে ‘বসু মল্লিক’ উপাধি গ্রহণ করেন। ইংরেজদের সাথে ব্যবসা করতে হবে বলেই বুঝেছিলেন ইংরেজি ভাষাটাকে রপ্ত করা দরকার। যে সমস্ত বাঙালিরা প্রথম এই বিদেশী ভাষা শেখার ব্যাপারে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাধানাথ মল্লিক। ৪৪ বছর বয়সে তিনি যখন মারা যান, তাঁর নামে প্রায় ৪০টি অট্টালিকা ছিল।

বসু মল্লিকের সম্ভবত দুটি বাড়িতে পুজো হয়। আমি যে বাড়িটিতে গিয়েছিলাম, সেই বাড়িটির পুজো শুরু হয়েছে ১৮৯১তে, যা শুরু করেছিলেন রাধানাথ বসু মল্লিকের নাতি ক্ষেত্র চন্দ্র বসু মল্লিক।পড়তে গিয়ে জানতে পারলাম, ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বসু মল্লিক বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং ছাত্রদের কাছে আবেদন করেছিলেন যাতে তারা সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে।

বাড়ির পরিবেশের কথা যদি বলা যায়, তাহলে তা বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করলেই বোঝা যায়। চারদিকে গাছপালা দিয়ে ঘেরা উঠোনটি বাড়ির নিস্তব্ধতাকে বজায় রেখেছে। ঠাকুরদালানের যে কারুকার্য এবং তাতে দেব দেবীর মূর্তি খোদাই করা ও তার সাথে কিছু ফুলেল কাজ; সবই আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।

এবং অন্যান্য বাড়ির ঠাকুরদালানের থেকে আপনি অল্প হলেও এখানে কিছু আলাদা বৈশিষ্ট্য পাবেন। এবাড়ির সিঁড়ি, দাওয়া, বারান্দা, প্রত্যেকটা জিনিসেই রয়েছে প্রাচীনত্বের ছাপ।কলেজ স্কোয়ারে ঠাকুর দেখার পর যে দরজা দিয়ে বেরোতে হয়, সেই দরজাটা দিয়ে বেরিয়ে ডানদিকে গেলে কলকাতা মিউনিসিপালিটি অফিস পড়ে। ঠিক তার পাশের গলিটা দিয়ে ঢুকে গেলেই কিন্তু বসু মল্লিকদের বাড়ি। তাই কলেজ স্কোয়ারের ঠাকুর দেখার পর এই বাড়ির ঠাকুরটিও একবার দেখেই নেওয়া যায়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *