কলকাতাজেলারাজনীতিরাজ্যহাওড়া

শা*সন করা তার‌ই সাজে, সোহাগ করে যে (সৌরভ সিংহ)

সৌরভ সিংহ,এই বাংলা 24:-বেশ কয়েকদিন আগে যখন ভরা সভায় বকা দিয়েছিলেন মাননীয়া,তখন অনেকে মুখ টিপে হেসেছিলেন।মনে মনে ভাবছিলেন ঠিক হয়েছে,আর অমন ভাবে জলে পা ডুবিয়ে বসবে।আনন্দে আত্মহারা। কিন্তু তারা এটা জানেনা,শাসন করা তার‌ই সাজে,সোহাগ করে যে।কেন‌ই বা করবে না?

সময়টা নব্বই দশক, সেইসময় সিপিআইএমের হার্মাদ বাহিনীর সামনে নিজের বুক পেতে দিয়েছিল উত্তর হাওড়ায়, তরুণ তরতাজা যুবক গৌতম চৌধুরী।যারা মাননীয়া র বকায় হেসেছিলেন,তারা সেইসময় টিভিতে বসে সংবাদ দেখতে দেখতে চা পান করতে করতে বলেছিলেন,’সত্যি সমাজের কি অবস্থা দেখো’।ব্যস, ওইটুকু,যেই সময়ের কথা বলছি, সেইসময় আমি ছাত্রাবস্থায়।দেখেছি রাত দুটো,বামুনগাছি তে আটকে পড়ে আছে মহিলারা,বাইরে সিপিআইএমের হার্মাদ বাহিনী,একা লড়ে বের করে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছিলেন মহিলাদের,তার নাম গৌতম চৌধুরী।নন্দীবাগানে চলছে ভোটের আগে অকথ্য অত্যাচার।পরের দিন ভোট, এজেন্ট বসাতে পারবেনা,ত্রাতা সেই গৌতম চৌধুরী।গৌতম চৌধুরী ও অরিজিৎ বটব্যাল কে অনেক সামনে থেকে দেখার সুবাদে বলতে পারি,আজ অনেক মোসাহেবের ভিড়, কিন্তু তারা এদের জীবন সংগ্রাম দেখেনি।আজ যে পুলিশ এদের সম্মান দেয়, নিজের চোখে দেখা গৌতম চৌধুরীর পায়ে মেরে প্রায় শয্যাশায়ী করে দিয়েছিল।সালকিয়া চৌরাস্তায় বক্তৃতা করা অরিজিৎ বটব্যাল কে কলার ধরে টানতে টানতে নামিয়ে দিয়েছিল পুলিশ।একটা সময় সিপিআইএমের মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকা এদের দুজনের সাথে আরো কয়েকজনের নাম ছিল। কিন্তু এত কিছুর পরেও গৌতম চৌধুরী ও অরিজিৎ বটব্যাল জমি ছাড়েননি।২০০৬ সালে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি, সেইসময় গৌতম চৌধুরী হয়তো খুন হতেন।কারণ সিপিআইএমের হার্মাদ বাহিনী বুঝতে পেরেছিল,যা কটা তৃণমূল কংগ্রেস ভোট পায়,তা গৌতম চৌধুরীর তত্বাবধানে,আগে একে সরাও। কিন্তু উত্তর হাওড়ার দামাল ছেলে,তাকে কি দমিয়ে রাখা যায়।ভোট যুদ্ধে বাড়ির সামনে বোমা পরলো,গুলিও চললো, কিন্তু অকুতোভয় গৌতম চৌধুরী ওই অবস্থায় নেমে এসে বুক চিতিয়ে দেয়।২০০১ সালে দালাল পুকুরের ডনেরা ছয়ের পল্লীর কাছে প্রকাশ্যে তরোয়াল নিয়ে প্রায় একশো দেড়শো তরোয়াল বাহিনীর সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে, কর্মীদের বাঁচিয়েছিলেন তার নাম গৌতম চৌধুরী।ভোট লুট চলছে,১৫ নম্বরে শেফালি পোড়েল নিজে দাঁড়িয়ে ভোট লুট করছে, ওদিকে সালকিয়া এ.এস.হাই স্কুলে দেদার ভোট লুট, গৌতম চৌধুরীর বুকে মারলো লাথি আর অরিজিৎ বটব্যালের পেটে মারলো, সিপিআইএমের হার্মাদ বাহিনী।মুখ ফেটে গেছে, সেইসময় নিজে চেষ্টায় যতটা সম্ভব ভোট লুট। এরকম বহু ঘটনা আছে,লিখতে গেলে একটি ব‌ই হয়ে যাবে। ভবিষ্যতে যদি লিখি তাহলে নাম রাখবো ‘গৌতম দামাল চৌধুরী ‘।মূল কথায় আসা যাক্,২০১৩ সালে যখন গৌতম চৌধুরী হাওড়া পৌর নিগমের মেয়র পারিষদ হন, তখন দায়িত্ব পান কনজারভেনশি বিভাগ। একমাত্র মাঠে ঘাটে নেমে গৌতম চৌধুরী ছাড়া কেউ কাজ করতে পারেনা।মনে আছে গৌতম চৌধুরীর বাবা নারায়ণ চৌধুরী যখন মারা যান,তার দিন চারেকের মধ্যে বিদেশি প্রতিনিধি আসেন বেলগাছিয়া ভাগাড় পরিদর্শনে। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী কাছা গলায়, তাদের সাথে দেখা করেন, ঘুরিয়ে সরেজমিনে দেখান, এমনকি বৈঠক করেন।২০১৮ সালে পৌর বোর্ড ভেঙে যায়। তত্বাবধানে পৌর নিগম চলছে,ভোট বাকি। কিন্তু ২০২১ সালে বিধায়ক হ‌ওয়ার পর প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য না হ‌ওয়া সত্বেও উত্তর হাওড়া কে জল মুক্ত করার জন্য, বিভিন্ন পরিকল্পনা নিতে থাকে।নিজে দাঁড়িয়ে থেকে জল পাম্প করানো, জঞ্জাল পরিষ্কার করানো,নর্দমা কাটানো, নানারকম পরিকল্পনা নিতে থাকেন।তার ফলস্বরূপ আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,যে ফিরহাদ হাকিম কে বলে হাওড়ার কনজারভেনশি সমস্ত দায়িত্ব গৌতম চৌধুরী কে দিতে।আসলে গৌতম চৌধুরীর কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মায়ের মতো।দামাল ছেলে গৌতম,তাই তাকে যেমন শাসন করেন, ঠিক সোহাগ করেন,যেমনটা আজ করলেন।

সৌরভ সিংহ

One thought on “শা*সন করা তার‌ই সাজে, সোহাগ করে যে (সৌরভ সিংহ)

  • Sudipto Ganguly

    কাছ থেকে দেখেছেন ওনার জীবন সংগ্রাম এবং দলের জন্য সংগ্রাম। এইরকম মানুষ গুলো আজকে আর পাওয়া যাচ্ছে না

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *