বিনোদনলাইফস্টাইলসাহিত্য সংস্কৃতিহাওড়া

কদমতলায় ভূতের বহর/সিটিবিএস-এ বেগুনকোদর

এই বাংলা 24:-এক অজানা আতঙ্কে এই স্টেশন খালি পড়ে রয়েছে প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে। স্থানীয়দের কাছে এটি ‘ভূতুড়ে স্টেশন’। রেল মানচিত্রে এই স্টেশনের নাম বেগুনকোদর। পাকা ইমারতের স্টেশন বিল্ডিং, রেল কোয়ার্টার্স—সবই রয়েছে। এক সময় নাকি স্টেশন লাগোয়া বড় বাজারও ছিল। এখন সে সবই অতীত। রেললাইনের ধারে সারা রাত হানাবাড়ির মত পড়ে থাকে পুরুলিয়ার জেলার কোটশীলার এই বেগুনকোদর স্টেশন।বহু বছর আগে একদিন মধ্যরাতে এখানে খুন হন স্টেশন মাস্টার ও তাঁর স্ত্রী। পরে স্টেশনের কাছে এক কুয়োর মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁদের মৃতদেহ। সেই থেকেই নাকি অশরীরী কার্যকলাপের শুরু। শোনা যায়, ওই ঘটনার পরই রাতারাতি পালিয়ে যান সব রেলকর্মী। বন্ধ হয়ে যায় এই স্টেশনে ট্রেন থামা। হানাবাড়ির মতো পড়ে থাকে শুধু পাকা স্টেশন বিল্ডিংটা।২০১০ সালে আবার চালু হয় বেগুনকোদর স্টেশন। তবে তা শুধু প্যাসেঞ্জার হল্ট হিসেবে। দিনের বেলায় কয়েক জনকে দেখা গেলেও রাতে ফাঁকাই থাকে স্টেশন।রাত নামলে হঠাৎ হঠাৎ এখানে দেখা যায় অদ্ভুত আলো। যত রাত বাড়ে, বাতাসে ভেসে আসে অদ্ভুত সব গন্ধ। মাঝে মধ্যেই নাকি শোনা যায় অশরীরী কণ্ঠস্বর। দিনের আলোতেও বেগুনকোদর মনে ত্রাস সঞ্চার করতে থাকে স্থানীয় লোকজনের। দিনের বেলাতেও অনেকেই নাকি কানের কাছে মানুষের গলা শুনে চমকে উঠেছেন অনেকে। চার পাশে তাকিয়ে কাউকেই নাকি দেখা যায়নি। অনেক সময়ে আবার লোকজনের গা ঘেঁষে চলে গিয়েছে অশরীরী কেউ! আচমকা ধাক্কা খেয়ে সচেতন হয়েছেন কেউ কেউ। কিন্তু যাঁর সঙ্গে ধাক্কা লাগল, তাঁর দেখা মেলেনি! এমনই নানা গল্প স্থানীয় লোকজনের মুখে মুখে ফেরে।এখনও সন্ধ্যার পর স্টেশন বিল্ডিংয়ের ত্রিসীমানায় দেখতে পাওয়া যায় না কোনও গ্রামবাসীকে। সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ এই স্টেশনে থামে রাঁচি-চন্দ্রপুরা-ধানবাদ প্যাসেঞ্জার। এর পর আর কোনও ট্রেনের স্টপেজই দেওয়া হয়নি এখানে। নেই কোনও রেলের স্থায়ী কর্মী। সন্ধের পরে আর কেউ আসেন না এখানে। এখনও একরাশ ভয়, আতঙ্ক নিয়ে সারা দিন ফাঁকা পড়ে থাকে পুরুলিয়ার বেগুনকোদর স্টেশন।

সেই বেগুনকোদর স্টেশন এবছরের কালী পুজোর থিম মধ্য হাওড়ার কদমতলায় সিটিবিএস ক্লাবের।

বাণী ব্রত কাড়ার

কালী পুজোর মুখ্য কর্ণধার বিশিষ্ট শিল্পপতি বাণীব্রত কাড়ার জানান যে,তিনি বরাবরই রহস্য রোমাঞ্চ প্রিয়,তিনি নিজে গিয়েছিলেন সঙ্গী সাথীদের নিয়ে রাতে ওই বেগুনকোদর স্টেশনে,নানা রকমের শব্দ পেলেও,কারোর দেখা পাননি,তবে অশরীরী আছে কি নেই সে ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত নন,তবে একটা রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা যে অর্জন করেছেন সেটা অনিস্বীকার্য।সেই অভিজ্ঞতা ও অজানা এক ভয়ের আবহে তৈরী এবছরের কালী পুজোর থিম,’কদমতলায় ভূতের বহর/সিটিবিএস-এ বেগুনকোদর’।দেখতে দেখতে ছাতিমতলা বালক সংঘ ৬৫ বছরে পড়েছে।এককালে কয়েকজনের উদ্যোগে তৈরী হয়েছিল এই সংঘ,তখন তারা ছাত্রাবস্থায় ছিলেন।আজ দেখতে দেখতে বহু সমাজ সেবামূলক কাজে ব্রতী এই ক্লাব, কদমতলায় একটি প্রতিষ্ঠান। যেকোনো দায় বিপদে এই সংগঠনের সভ্যদের পাওয়া যায়।করোনার ভ্যাক্সিন থেকে লকডাউনে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দুঃস্থ ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা, মানুষের সেবা এই ক্লাব বর্তমানে একটি প্রতিষ্ঠান।বহু প্রতিযশা মানুষের পদধূলি ধন্য এই ক্লাব। বিশিষ্ট অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাহিত্যিক পৃথ্বীরাজ সেন প্রমুখ এই ক্লাবে এসে এদের কর্মকান্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে গেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *