হাওড়া সন্ধানী শিল্পী গোষ্ঠীর আঠারোয় পা

এই বাংলা 24:-থিয়েটার একটি দলগত শিল্প। থিয়েটারে যেমন ব্যক্তি প্রতিভার স্থান রয়েছে আবার দলগত কর্মযজ্ঞের কোনও বিকল্প নেই। বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে গিরিশ যুগ, শিশির যুগের পর শম্ভু মিত্র পদার্পণ করেছিলেন এবং অচিরেই হয়ে উঠেছিলেন এক অনন্য যুগচিহ্ন। ব্যক্তি-অভিনেতা কেন্দ্রিক পেশাদারি থিয়েটারের যুগাবসানের পর যে গণনাট্যের যুগ শুরু হয়েছিল, সাথে সাথে শ্রুতি নাটক।তার অন্যতম পুরোধা ছিলেন শম্ভু মিত্র। উত্তর হাওড়ার বুকে নাটকের কথা বললে যাঁদের কথা মনে আসে সেই দেবকি গাঙ্গুলি, ডাঃ বনবিহারী কর প্রমুখ।
৫ নভেম্বর হাওড়া সন্ধানী শিল্পী গোষ্ঠীর জন্মদিন।২০০৬ অস্থির সময়ে হাওড়া সন্ধানী শিল্পী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা পরবর্তী সময়কে অনেকেই উত্তর হাওড়ার নবনাট্যের যুগ বলে থাকেন। বাংলা থিয়েটারের ইতিহাসে এই সময়টি তাই ভীষণ উল্লেখযোগ্য হয়ে থেকে গিয়েছে।এই গোষ্ঠী বলতে যার কথা সবসময় উল্লেখযোগ্য তিনি অমিতাভ গাঙ্গুলি।তার হাত ধরে প্রতিষ্ঠা পায় এই সংস্থা।সাথে ছিলেন বাল্য বন্ধু সোমনাথ মজুমদার,সহকর্মী সোমনাথ সিংহ ও সর্বোপরি বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব যিনি আর ইহলোকে নেই, তিনি পরিচালনার ভার নেন নিতাই সেনগুপ্ত।
হাওড়া সন্ধানী শিল্পী গোষ্ঠী গঠনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস।একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নাটক মঞ্চস্থ করে এই দল।সাধক রামপ্রসাদ ,সবার মা সারদা,নিমাই সন্ন্যাস,নটী বিনোদিনী,হালফিলের নাটক পাখি সহ বহু নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। অমিতাভ গাঙ্গুলি ও হাওড়া সন্ধানী শিল্পী গোষ্ঠীর কথা বলতে গেলে সাধক রামপ্রসাদ ও সবার মা সারদা মঞ্চায়নের কথা উঠে আসবেই।যা দেড় শত রজনী অতিক্রম করেছে। বাংলা থিয়েটার জগতে অভিনয়, দৃশ্য রচনা, নাট্য আবহ রচনা, প্রয়োগ ভাবনার উৎকৃষ্ট উদাহরণ সাধক রামপ্রসাদ,সবার মা সারদা ও নটী বিনোদিনী’।
পরবর্তী সময়ে দেবাদীপ গাঙ্গুলি এখানে আধুনিক নাটকের প্রতিভা রাখেন।আর যার কথা না বললেই নয়, বিশিষ্ট বাচিক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়,শিবু ঘোষ।আর উল্লেখযোগ্য তপন সরকার যিনি ইহলোকে নেই।আজো এই আঠারো তম প্রতিষ্ঠা লগ্নে উত্তর হাওড়ার বুকে নাট্য আন্দোলন হিসাবে এখনও নাটক প্রযোজনা করে চলেছে।
তবে অমিতাভ গাঙ্গুলির স্ত্রী ইন্দ্রানী গাঙ্গুলি ও নিতাই সেনগুপ্তের জীবনাবসানের মধ্যে দিয়ে এক যুগের অবসান হয় হাওড়া সন্ধানী শিল্পী গোষ্ঠীর।তবে নাটক এগিয়ে চলেছে, সঙ্গে গোষ্ঠী। পথ দেখিয়ে চলেছে সমসাময়িক অনেক নাট্যদলকেও। তাই তরুণ তরতাজা যুবক ক্লান্ত হয়নি হাওড়া সন্ধানী শিল্পী গোষ্ঠী, বরং কচিকাচার দল নিয়ে মঞ্চে নিয়ে এসেছে সমাজকে, বারবার, বিভিন্ন পোশাকে, বিভিন্ন আঙ্গিকে। আর রয়ে গিয়েছে সেই আদর্শ।

৫ নভেম্বরের প্রতিষ্ঠা দিবসে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক গৌতম চৌধুরী, সমাজসেবী রাধারাণী দত্ত, সপ্তর্ষি সান্যাল, প্রিয়াঙ্কা সিং, নৃত্য শিল্পী মহুয়া গাঙ্গুলি, হাওড়া প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সৌরভ সিংহ, দীপান্বিতা ভট্টাচার্য,শম্পা চক্রবর্তী সহ অনেকে। সঙ্গীত পরিবেশন করেন সোমা ভট্টাচার্য,যার সঙ্গীত মূর্ছনায় দুলে ওঠে দর্শকবৃন্দ,আর পরিবেশন করেন সঞ্জয় সেন। তবলায় সঙ্গত করেন গোষ্ঠীর জন্মলগ্নের সাথী হীরন্ময় মিত্র।নৃত্যে মহুয়া গাঙ্গুলি ও সম্প্রদায়।তবে প্রজেশ সেনগুপ্তর মঞ্চস্থ শ্রুতি নাটক দর্শকদের ভালো লাগেনি,বরং দর্শকদের মধ্যে ফিসফিস হয় এটা নাটক নয়,কেচ্ছা।
