জেলালাইফস্টাইলসাহিত্য সংস্কৃতিহাওড়া

“উইশ”মানুষ গড়ার কারিগর

এই বাংলা 24:-প্রভাত ভবিষ্যতের বার্তা বাহক। মানুষের জীবনে বিদ্যালয়ের এক অনবদ্য ভূমিকা আছে। বিশেষতঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়।শিশু মনের জমি তখন উর্বর থাকে,তাতে সঠিক বীজ বপন করলে,সাফল্য আসে।আমরা অনেক সরকারি বিদ্যালয়ের নাম জানি যা পড়ুয়ার অভাবে উঠে যাচ্ছে।আশে পাশে অনেক বেসরকারি বিদ্যালয়ে পড়ুয়া সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।অনেকে সরকারের দোষ খোঁজে। দায়বদ্ধতা কি শুধু সরকারের?শিক্ষক শিক্ষিকাদের নেই। দায়বদ্ধতা তাদের‌ই বেশি। চারিদিকে এত নেতিবাচকের বার্তার মধ্যে মধ্য হাওড়া কদমতলায় অবস্থিত তারা সুন্দরী বালিকা বিদ্যাভবন প্রাথমিক বিভাগ, সমগ্র বাংলা কে দিশা দেখাচ্ছে। আশেপাশে বেসরকারি বিদ্যালয়ের রমরমা তে কিন্তু এই সরকারি বিদ্যালয়ে ছাত্রীর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, হাজারের গন্ডি পেরিয়েছে।কারণ এখানকার প্রধান শিক্ষিকা অর্পিতা রায়ের তত্ত্বাবধানে ও সহ শিক্ষিকা গণের প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন।এখানে পড়ুয়াদের ধ্যান করানো হয়,ক্যারেটে শেখানো হয়,যোগ ব্যায়াম শেখানো হয়, মহাপুরুষদের বাণী পড়ানো হয় এবং পড়ুয়াদের মহাপুরুষদের বাণী লিখে আনতে বলা হয়, স্পোকেন ইংলিশ শেখানো হয়, খেলাধুলা ও পড়ুয়াদের গ্রুমিং করানো হয়। এখানে পড়ুয়ারা এমনকি অভিভাবক অভিভাবিকারা সমস্যায় পড়লে কাউন্সেলিং করানো হয়।এই বিদ্যালয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ,মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দের চিত্র আছে, প্রতিদিন পড়ুয়ারা নিজেদের বাড়ির গাছের ফুল তুলে এনে অর্পণ করে দিন শুরু করে প্রার্থনার মাধ্যমে। আদর্শ মানুষ হ‌ওয়ার সহবত শিক্ষা দেওয়া হয়।প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য যে সবাই প্রথম হতে পারে না,সবাই ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে পারে না,আদর্শ মানুষ হ‌ওয়া জীবনে দরকার।সেই আদর্শ মানুষ তৈরী করতে প্রধান শিক্ষিকার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সংগঠন “উইশ”।

সোমবার হাওড়া শরৎ সদনে অনুষ্ঠিত হলো সংগঠনের বার্ষিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়, হাওড়া পৌর নিগমের প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী, বিশিষ্ট সমাজসেবী হাওড়া প্রেস ক্লাবের সহ সভাপতি বাণীব্রত কাড়ার, বিশিষ্ট সমাজসেবী মলয় রায় সহ হাওড়া শহরের গণ্যমান্য শিশু চিকিৎসক গণ।

প্রত্যেকেই এই কর্মধারার ভূয়সী প্রশংসা করেন।তারা সুন্দরী বালিকা বিদ্যাভবন প্রাথমিক বিভাগ একটা আদর্শ বিদ্যালয় হিসেবে এগিয়ে চলুক,সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক “উইশ”এই বার্তা সেদিনের সভা থেকে উঠে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *