শ্রীরামকৃষ্ণের হাতে টানা রথযাত্রা,আজো অনুষ্ঠিত হলো সাড়ম্বরে

এই বাংলা 24:- বলরাম মন্দির, বলরাম বসুর বাড়ি। যেখানে ১৮৮১ থেকে ১৮৮৫ অবধি রথের রশি টেনে ছিলেন স্বয়ং যুগাবতার শ্রীরামকৃষ্ণ। সমগ্র বিশ্বের কাছে তিনি স্বয়ং ঈশ্বর।কি ঘটেছিল সেদিন,কথামৃত থেকে জানা যায়:-
অপরাহ্ন হইয়াছে। ইতিমধ্যে বারান্দায় শ্রীশ্রীজগন্নাথের সেই ছোট রথখানি ধ্বজা পতাকা দিয়া সুসজ্জিত করিয়া আনা হইয়াছে। শ্রীশ্রীজগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরাম চন্দনচর্চিত ও বসন-ভূষণ ও পুষ্পমালা দ্বারা সুশোভিত হইয়াছেন। ঠাকুর বেনোয়ারীর কীর্তন ফেলিয়া বারান্দায় রথাগ্রে গমন করিলেন, — ভক্তেরাও সঙ্গে সঙ্গে চলিলেন। রথের রজ্জু ধরিয়া একটু টানিলেন — তৎপরে রথাগ্রে ভক্তসঙ্গে নৃত্য ও কীর্তন করিতেছেন। অন্যান্য গানের সঙ্গে ঠাকুর পদ ধরিলেন:
যাদের হরি বলতে নয়ন ঝরে, তারা তারা দুভাই এসেছে রে!
যারা মার খেয়ে প্রেম যাচে, তারা তারা দুভাই এসেছে রে!
আবার — নদে টলমল টলমল করে, গৌরপ্রেমে হিল্লোলে রে।
ছোট বারান্দাতে রথের সঙ্গে সঙ্গে কীর্তন ও নৃত্য হইতেছে। উচ্চ সংকীর্তন ও খোলের শব্দ শুনিয়া বাহিরের লোক অনেকে বারান্দা মধ্যে আসিয়া পড়িয়াছে। ঠাকুর হরিপ্রেমে মাতোয়ারা। ভক্তেরাও সঙ্গে সঙ্গে প্রেমোন্মত্ত হইয়া নাচিতেছেন।

এবছরেও অন্যথা হয়নি। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সন্ন্যাসী গণ সহ সমস্ত ভক্তদের হাতে রথের রশিতে রথযাত্রা চাকা ঘুরতে লাগলো শ্রীরামকৃষ্ণ কে সাক্ষী রেখে।
চিত্র:-দীপাঞ্জন লাহিড়ী
