হাওড়া সপ্তকের রবীন্দ্র নজরুল স্মরণ

এই বাংলা 24:-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে কাজি নজরুলের বয়সের পার্থক্য ৩৮ বছরের। রবীন্দ্রনাথের জন্ম ১৮৬১ সালে, নজরুলের ১৮৯৯ সালে। নজরুলের শৈশব-কৈশোর কেটেছে পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়া ও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলিতে লেটোগানের আসরে এবং রাণীগঞ্জ, মাথরুন ও দরিরামপুরে স্কুলের চৌহদ্দিতে। এ পর্বে তিনি আসানসোলে রুটির কারখানায় এবং ময়মনসিংহের ত্রিশালে পুলিশের দারোগা বাড়িতে কাজ করেন। কাজেই কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। কিন্তু ইতিহাস থেকে জানা যায় – নজরুলের রবীন্দ্র-অনুরাগ তাঁর ছাত্রজীবন থেকেই।১৯১৬ সালের ঘটনা। নজরুল তখন বর্ধমান জেলার (এখন পশ্চিম বর্ধমান) রাণীগঞ্জের নিকট সিয়ারসোল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। ওই বয়সেই বাংলা সাহিত্যের অনেক দিকপাল লেখকদের লেখার সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। সেই সূত্রে রবীন্দ্রনাথের প্রতি তাঁর মনে অসীম ভক্তির জন্ম হয়। একবার খেলার মাঠে বন্ধুরা তাঁকে নিয়ে মজা করার জন্য রবীন্দ্রনাথের বিষয়ে কিছু অপ্রিয় কথা বলায় নজরুল রেগে গিয়ে বাঁশের গোলপোস্ট উপড়ে বন্ধু জগৎ রায়ের মাথায় এমন আঘাত করেছিলেন যে, মাথা ফেটে রক্তপাত হয়েছিল। সে মামলা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল।আকৈশোর রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে অদ্ভুত শ্রদ্ধা নজরুলের। নিজেই লিখেছিলেন, ‘বিশ্বকবিকে আমি শুধু শ্রদ্ধা নয়, পূজা করে এসেছি সকল হৃদয়-মন দিয়ে, যেমন করে ভক্ত তার ইষ্টদেবতাকে পূজা করে, ছেলেবেলা থেকে তাঁর ছবি সামনে রেখে গন্ধ-ধূপ-ফুল- চন্দন দিয়ে সকাল-সন্ধ্যা বন্দনা করেছি। এ নিয়ে কত লোক কত ঠাট্টা-বিদ্রুপ করেছেন।’

তাই বোধহয় ভক্ত ও ভগবানের অর্চনা করে বাঙালি একসাথে প্রতি বছর।আসলে ভক্ত বিনা যে ভগবানের কোনো অস্তিত্ব নেই। সম্প্রতি বঙ্গীয় সঙ্গীত পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী স্বপ্না দত্তের সংস্থা হাওড়া সপ্তক এর উদ্যোগে রবীন্দ্র নজরুল সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।প্রায় ৭০ জন সমন্বয়ে এই সংস্থার ছাত্র ছাত্রীরা নাচে গানে ভরিয়ে এক সুন্দর সন্ধ্যার উপহার দেয়।এইদিন বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী স্বাগতা দত্তের নৃত্য যথেষ্ট মনোমুগ্ধকর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এদিনের বিশেষ আকর্ষণ ছিল গৌমতমান্দ প্রামাণিকের যাদু প্রদর্শন, অবশ্যই দুই কবিকে শ্রদ্ধা নিবেদন করে, কবিতার ছন্দে।


এদিন বঙ্গীয় সঙ্গীত পরিষদের বার্ষিক পরীক্ষার কৃতকার্য করা ছাত্র ছাত্রীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেন সাংবাদিক সৌরভ সিংহ।অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক সুজিত কুমার পাল।
