বাংলা সাহিত্যের আরো এক ভালোবাসার নাম ছিলেন প্রফুল্ল রায়

পিয়ালী মুখোপাধ্যায়:-শুরুটা মনে নেই। কিন্তু অদ্ভুত এক ভালোলাগায় পড়তাম তাঁর লেখা। সঠিক বিশ্লেষণ করার যোগ্যতা দিয়ে তাঁকে বিচার করা যায় না। এতটাই বাস্তবতা ছিল তাঁর লেখায়, একবার পড়লে বারবার পড়তে হয়।বাংলা সাহিত্যের আরো এক ভালোবাসার নাম ছিলেন প্রফুল্ল রায়। “কেয়াপাতার নৌকা, মন্দ মেয়ের উপাখ্যান, প্রথম তারার আলো (বাঘবন্দি খেলা) , এখানে পিঞ্জর, পূর্ব পার্বতী, কিন্নরী , করুণা ধারায় এসো, বাঘ, চর, আকাশের নীচে মানুষ, উত্তাল সময়ের ইতিকথা ” (যেগুলো পড়ে নাম মনে রাখতে পেরেছি) …. এরকম আরও কতো উপন্যাস, ছোটগল্পের স্রষ্টা তিনি। তাঁর কাহিনি থেকে ছবি তৈরি করেছেন তপন সিংহ থেকে গৌতম ঘোষ, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত থেকে হরনাথ চক্রবর্তী, বীরেশ চট্টোপাধ্যায় থেকে রাজা সেন। আর সেই সব ছবিতে অভিনয় করেছেন উত্তমকুমার থেকে প্রসেনজিৎ, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় থেকে ইরফান খান। এমনকি, প্রফুল্ল রায়ের ‘মানুষের যুদ্ধ’ উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে চিত্রনাট্য লিখেছিলেন সত্যজিৎ রায় স্বয়ং। পরে সন্দীপ রায় সেই চিত্রনাট্য থেকে তৈরি করেন হিন্দিতে ‘টার্গেট’।১৯৫৪ সালে একটি সাময়িকীতে ‘মাঝি’ গল্প দিয়ে তাঁর লেখক জীবনের যাত্রা শুরু। পরের ৬৬ বছরে দেড়শোর বেশি বই লিখেছেন, তার মধ্যে উপন্যাসের সংখ্যা একশো ছুঁই ছুঁই। তাঁর লেখা খান তিরিশেক উপন্যাস এবং ছোট-বড় গোটা দশেক গল্প মিলিয়ে বাংলা, হিন্দি ও ওডিয়া ভাষায় চল্লিশের কাছাকাছি ছবি, টেলিফিল্ম, টেলি সিরিয়াল, সোপ হয়েছে। পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ছবি হয়েছে প্রায় ২৫টি। প্রফুল্ল রায়ের-কাহিনির উপর ভিত্তি করে গড়ে প্রায় প্রতি বছর একটা-না-একটা, কোনও-না-কোনও ভাষায় ছবি তৈরি হচ্ছে, হয়েছে, এবং পরেও হবে। তাঁর লেখার বিশিষ্টতা এখানেই। বাংলা কথাসাহিত্যের একটি জনপ্রিয় ধারার নাম হলো প্রফুল্ল রায়। অদ্ভুত এক মাত্রাজ্ঞান আর অবিশ্বাস্য সংযমের উত্তরাধিকারী ছিলেন তিনি, সমৃদ্ধ হয়েছেন আকাদেমি, রামকুমার ভুয়ালকা, বঙ্কিম, শরৎ স্মৃতি সহ একাধিক পুরস্কারের প্রাচুর্য্যে ।চলে গেলেন এমন প্রণম্য , অবিস্মরণীয় সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায়।©#author #praffularoy #writer #memories #nostalgia #bengaliliterature

পিয়ালী মুখোপাধ্যায়, আধুনিক প্রজন্মের সাহিত্যিক, সমাজসেবী
